সিএনএন
লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরাইলের বর্বরোচিত বিমান হামলায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বুধবারের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও ৮৯০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননে ইসরাইলের হামলা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসঙ্ঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। বিবৃতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা সরকার। একই সাথে বেসামরিক নাগরিকদের সুরা নিশ্চিত করতে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লেবাননকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ আখ্যা দিয়ে দেশটির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে সিরিয়া। বলেছে, তারা এই সঙ্কটে দেশটির পাশে আছে। পাশাপাশি ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের দায়িত্ব পালনের জোরালো তাগিদ দিয়েছে দামেস্ক। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে লেবাননে ইসরাইলি হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আরও বলেছে, এসব হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা ও জাতিসঙ্ঘ সনদের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইসরাইলি নৃশংসতায় বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায় ওমান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইসরাইলকে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য পুরোপুরি দায়ী করতে এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদপে নিতে হবে।’ এর আগে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে লেবাননের পরিস্থিতিতে ‘ভয়াবহ’ অভিহিত করে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন রক্তপাত অবিশ্বাস্য। এটি বর্তমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রা করা বাধ্যতামূলক।
পাকিস্তান এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যস্থতা করেছে, তাতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসরাইলের হামলাকে নির্বিচার আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।
এ দিকে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিটি কুপার বলেছেন, এই হামলা তিকর এবং লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সেনেজ নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার অবজ্ঞা অসহনীয়। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি লেবাননের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলে সংহতি জানান এবং ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা আরেকটি গাজা পরিস্থিতি দেখতে চাই না। কাতার এই হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলকে থামাতে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একইভাবে তুরস্কও কঠোর ভাষায় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি যুদ্ধবিরতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতকে আরো বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে।



