এনডিটিভি
সাইবার হামলা, তথ্য ফাঁস ও মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারির ঝুঁকি এড়াতে দৈনন্দিন যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। প্রাতিষ্ঠানিক ও দাফতরিক বার্তা বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই অ্যাপ্লিকেশনটি বাদ দিয়ে সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের চীনা প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘উইচ্যাট’ ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদানে সাইবার সংক্রান্ত নিরাপত্তাহীনতা হ্রাস এবং সার্বিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোরদার করতেই পাকিস্তান সেনাসদর এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সামরিক বাহিনীর গোপনীয় বার্তা আদান-প্রদানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। সেনাসদরের অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় জানানো হয়, হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য চুরি কিংবা বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির আওতায় পড়ার মারাত্মক সুযোগ থাকে। সে তুলনায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে চীনা অ্যাপ উইচ্যাটকে অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প মনে করছে পাক সামরিক কর্তৃপক্ষ। চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ‘সুপার অ্যাপ’-এর মাধ্যমে মূল বার্তার পাশাপাশি ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং ফাইল শেয়ারিংসহ নানা ডিজিটাল সুবিধা একই সাথে পাওয়া সম্ভব।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল যোগাযোগের মাধ্যম পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ও চীনের প্রতিরক্ষা সুসম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বিগত বছরগুলোতে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, বড় ধরনের অস্ত্র ক্রয় এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের হার বহুগুণ বেড়েছে। এখন সেনাবাহিনীর দাফতরিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উইচ্যাটকে গ্রহণ করার ফলে দুই দেশের সার্বিক সামরিক সমন্বয় ও প্রশাসনিক যোগাযোগ প্রক্রিয়া আরো সহজতর হবে।



