সংসদে শিল্পমন্ত্রী

চামড়া রফতানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে জুলাইয়ের মধ্যে রোডম্যাপ

৩ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া শিল্পকে আরো গতিশীল করে বার্ষিক রফতানি আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চলতি জুলাই মাসের মধ্যে সরকার একটি সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সাথে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের পরিবেশগত সমস্যা সমাধান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং উদ্যোক্তাদের ঋণ ও নগদ সহায়তা সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এসব তথ্য জানান। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, খাতটিকে পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কারিগরি মূল্যায়ন ইতোমধ্যে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ইতালপ্রোজেত্তি সম্পন্ন করেছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিইটিপির বর্জ্য শোধন সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় পরে তা ৪০ হাজার এবং পরবর্তীতে ৫০ হাজার ঘনমিটারে উন্নীত করার জন্য পৃথক নকশা ও ডিজাইন প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরো জানান, কেন্দ্রীয় শোধনাগারের ওপর চাপ কমাতে ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এ ছাড়া আরো ২০ থেকে ২৫টি তুলনামূলক বড় ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চামড়া শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ ও নগদসহায়তা সহজ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমন্বিত রোডম্যাপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিশ্ববাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশসম্মত শিল্পে পরিণত হবে।’

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবেলায় সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (এক্স) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ছয় হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসবের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ে ১৪টি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবেলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ফ্যাক্টচেকিং ম্যানুয়াল প্রকাশের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য ও স্বল্পসুদে ঋণ দিতে নানা উদ্যোগ

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং স্বল্পসুদে ঋণসুবিধা সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কক্সবাজারের ৩২ হাজার ৪১০ জন এবং চট্টগ্রামের সাত হাজার ৭৪০ জনসহ মোট ৪০ হাজার ১৫০ জন লবণচাষি ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে চাষ করে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছেন।

মন্ত্রী জানান, উৎপাদন ব্যয় যাচাই করে মাঠপর্যায়ে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য লবণ আমদানির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং সোডিয়াম সালফেটের নামে যাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করা না যায়, সে জন্য শুল্ক ছাড়ের আগে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণের গড় মূল্য ৩৩৭ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৭১ টাকা।

৩ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তরপর্ব স্থগিত :

এ দিকে গতকাল বুধবার আসরের বিরতির পর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রশ্নোত্তর পর্ব মাঝপথেই স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বক্তব্য দেন।