আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নেয়ার ডাক ডা: শফিকের

আমরা জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না : নাহিদ ইসলাম

Printed Edition
রাজধানীর পল্টনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান  : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর পল্টনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের ভাইরাস, চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস এই সব ভাইরাস মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সেই বিপ্লবের জন্য আপনারা কি প্রস্তুত? মানুষের জীবন, ইজ্জত ও সম্পদ, দেশের সীমানার জন্য আরেকবার কি জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন? বন্ধুরা, এই বয়সে আমি ও আমরা পিছিয়ে থাকব না। সম্মুখ সারিতে থাকব। আড়ালে তলে নয়! তবুও বাংলাদেশের দিকে কাউকে লাল চোখ দিয়ে তাকাতে দেবো না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা মহানগরী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট এই জাতিকে আল্লাহ তায়ালা ছাত্র, শ্রমিক, যুব, জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুইটি বছর আগে আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে যে দলটি আমাদের মতোই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল, আজকে তারা ক্ষমতায় আছে। আরো দুঃখজনক এই দলটি নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় ও দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য কি তাদের দায় ও দরদ থাকবে। লজ্জার বিষয়! ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলা দলীয় অনুগত লোকদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেয়া, এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকেই আগাচ্ছেন। বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। পরিষ্কার বলে দিচ্ছি হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন। আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রত্যেকটি বিষয়ই সেখানে আমরা প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ কিভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণও জানে। এবং এই ব্যাপারে কিছু রাজসাক্ষীও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। আপনাদের দলের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে, বিগত সরকারের মধ্য থেকেও পাওয়া গেছে। আমরা আপনাদের বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। বিচারগুলো নিশ্চিত করুন। এই রাস্তায় আমাদের কলিজার টুকরা, বিপ্লবের প্রতীক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তার বিচারও ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত চার্জশিট দেয়া হয় নাই। কাকে খুশি করার জন্য, কোন সত্যকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হচ্ছে? জনগণ জানতে চায়। মাত্র দুই দিন আগে গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের একজন তরুণ নেতাকে গলা কেটে স্পষ্ট দিবালোকে সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করে মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় দেয়া যাবে, কিন্তু কোনো আদর্শকে খুন করা যাবে না। এ দেশের মানুষের অন্তরে, কলিজায়, হৃদয়ে, মগজে সব জায়গায় বসে আছে মজবুতভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। এই আদর্শকে নির্মূল করার চিন্তা করবেন না। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঘোষণা করে দিয়েছেন নির্মূল করবেন। অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছেন। নির্মূল নির্মূল বেশি করবেন না। কোনো কালো হাত বাড়ালে সেই হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত এই দেশকে পাহারা দেবে, ইনশাআল্লাহ। কারো বাবার সাধ্য নাই এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করার। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদের আগামী সেই বিপ্লবের দাওয়াত আজকে দিয়ে রাখলাম। সংসদে যত দিন পর্যন্ত কথা বলার পরিবেশ থাকবে, জাতির স্বার্থে যত দিন পর্যন্ত থাকার দরকার হবে, তার বাইরে আমরা এক সেকেন্ডও থাকব না। যেদিন সংসদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, যেদিন মনে হবে এই সংসদে আর কথা বলে লাভ নাই, সেদিন সেই সংসদে খোদা হাফেজ বলে আমরা বেরিয়ে আসব। প্রস্তুত থাকুন সেই বিপ্লবের জন্য। অন্যায়ের সাথে কোনো আপস নয়। নতুন পুরনো কোনো ফ্যাসিবাদ মানি না। পুরনোও পরিত্যাজ্য, নতুনও ঘৃণিত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে এই সমাবেশে আমরা জড়ো হয়েছি বিচারের দাবিতে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার, যে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায়ও আমাদের বিচারের দাবিতে আজো রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ বিগত ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য বোমা, খুন, গণহত্যা চালিয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষের ওপরে, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপরে। তার ফলে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল দিল্লিতে। এই সরকার, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে নতুন কোনো রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। কোনো নতুন কোনো তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয় নাই। এটা স্পষ্টত যে চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নতুন যোগ্য দায়িত্ববান ব্যক্তিকে বসাতে হবে যিনি আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় হয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে এখন সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে সংস্কার, বিচার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।

তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আমরা নিশ্চিত করব। সেই সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা নিশ্চিত করব। এবং আরেকটি কথা বলে দিতে চাই, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী সংগঠন, যার আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। কারণ আওয়ামী লীগের শেকড় রয়েছে দিল্লিতে, আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে, আগে থেকেই এটি একটি ভারতীয় পার্টি ছিল। ফলে আওয়ামী লীগের দেশে আসার, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে ৫ আগস্টেই সমাপ্ত হয়েছে। যারা সমঝোতা করছে, যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আইনমন্ত্রী, বিচার করা না করার কারণে তিনি স্পষ্ট ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নিরাপত্তা দিতে না পারায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী, তিনি স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, আওয়ামী লীগের সুশীলসমাজকে তিনি মিডিয়ায় স্পেস দিচ্ছেন। এই সবকিছুই বাংলাদেশের জনগণ দেখছে। আমরা আজকেই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, জুলাই গণহত্যা, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব গুম, খুন ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে এই লড়াই সংসদ এবং সংসদের বাইরে আমরা চালিয়ে যাব। সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যেই বিএনপির ১০০ দিনে দেশে ৯৫২টি মানুষ খুন হয় সেই বিএনপির কাছে বিচার দাবি করে কি লাভ আছে? যে বিএনপির নেতাকর্মীরা পল্টনে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী মিটকোর্ডে সোহাগের লাশের ওপর নৃত্য করেছে, সেই বিএনপির কাছে কি বিচার আশা করা যায়? যে বিএনপির শাসন আমলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৮০টি মামলার ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ৭৩টি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করা, সাতটি মামলার রায় দিয়েছে, সেগুলো স্তব্ধ করার জন্য দলীয় প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, সেই বিএনপির কাছে এই বিচার দাবি করে লাভ নেই। তাই আসুন, জামায়াত আমির যে ঘোষণা দিয়েছেন আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে। যেই বিপ্লবের মাধ্যমে অক্টোপাশ বিএনপি যারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করে ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এগিয়ে যাবে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে সবাইকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে ‘ট্রায়াঙ্গেল’ ধরনের একটি কৌশল অনুসরণ করছে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছে। এর মাধ্যমে তিনি মনে করেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের মাঠে সক্রিয় হওয়ার জন্য পরোক্ষ সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একইসাথে দলীয় কর্মীদের মাঝে সঙ্ঘাত বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে, সেই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নেতিবাচক পরিকল্পনা জনগণ মেনে নেবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বুকের রক্ত দিয়ে, জীবনের বিনিময়ে বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ আর বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে পারবে না। আমরা আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে দাঁড়িয়ে আছি যে দিনে বিশ্বাসঘাতকতা ও গাদ্দারির মাধ্যমে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল লর্ড ক্লাইভের দল। আজ এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা বলতে চাই, রক্ত দিয়ে আমরা জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছি। সেই রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি জীবন দিয়েও আমরা বাংলার মাটিকে মুক্ত রাখব এটাই আমাদের শপথ।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের জুলাই বিপ্লবসহ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সহযোদ্ধা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান জানাই নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় শহীদদের প্রতি আমাদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিগত দিনের প্রতিটি গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। আমরা বিচার করব ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির। আমরা বিচার করব আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে সংঘটিত ঘটনাবলির। শাপলা চত্বরে সংগঠিত গণহত্যারও বিচার হবে।

তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মোদি বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। যদি বিএনপি এসব হত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, ভবিষ্যতে তাদেরও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, শরিফ উসমান হাদিকে হত্যার পর হত্যাকারীরা ভারতে আশ্রয় পেয়েছে। আমরা ভারত সরকারকে আহ্বান জানাই এই হত্যাকারীদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে হবে। যদি তা না করা হয়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করবে। তিনি আরো বলেন, “ফ্যাসিবাদ যেভাবে বিতাড়িত হয়েছে, তা আর কোনো রূপেই বাংলাদেশে ফিরতে দেয়া হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই জাতীয় জাদুঘর নিয়ে কোনো টালবাহানা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেউ যদি জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে যায়, ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না। আমরা রক্ত দিয়ে অর্জিত এই জুলাই চেতনাকে রক্ষা করব।