শীতে ভাইরাল ফ্লু ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে

দুই মাসে হাসপাতালে ভর্তি ২৮ হাজার

শীতকালীন ঠাণ্ডায় একাধিক ভাইরাস অ্যাক্টিভ হয়ে থাকে। অন্য সময় এই ভাইরাসগুলো সুপ্ত অবস্থায় থাকে, মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। শীতকালে কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলেই ভাইরাসগুলো শরীরে সক্রিয় হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে স্বল্প ওষুধে এবং স্বল্প সময়ে সুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান।

হামিম উল কবির
Printed Edition

শীতের কারণে দেশে ভাইরাল ফ্লু ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাধারণ সর্দি-কাশি, আরএসভির কারণে সর্দি-কাশির রোগী বেড়েছে। এ ছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানির রোগী তো রয়েছেই। সময় মতো চিকিৎসা না করাতে পারলে নিউমোনিয়া হয়ে যাচ্ছে। শীতজনিত নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণে বেশি ভুগছে বৃদ্ধ, শিশু এবং ইমিউন-কমপ্রোমাইজড (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম) লোকেরা।

শীতকালে কম তাপমাত্রা, কুয়াশা, বায়ুদূষণ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে হাসপাতালে বহির্বিভাগে শীত বাড়ার পর থেকেই জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরব্যথা নিয়ে রোগীর প্রচুর চাপ রয়েছে। নভেম্বরের ১ থেকে ডিসেম্বরের ৩০ পর্যন্ত সারা দেশে ২৮ হাজার ৫২৪ জন ঠাণ্ডাজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দিন দিন রোগীর চাপও বাড়ছে হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালীন ঠাণ্ডায় একাধিক ভাইরাস অ্যাক্টিভ হয়ে থাকে। অন্য সময় এই ভাইরাসগুলো সুপ্ত অবস্থায় থাকে, মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। শীতকালে কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলেই ভাইরাসগুলো শরীরে সক্রিয় হয়। যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে স্বল্প ওষুধে এবং স্বল্প সময়ে সুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান।

তা ছাড়া শীতে শরীরকে ভালোভাবে গরম জামাকাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে, গরম পানিতে গোসল করলে এবং গরম পানি ও গরম খাবার খেলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। শ্বাকষ্টজনিত রোগ ছাড়াও শীতকালে ডায়রিয়াও হয়ে থাকে। নরোভাইরাস ও রোটাভাইরাসের কারণে বেশি ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এই দুই ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া হলে পানি শূন্যতা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, শীতকালীন ফ্লুকে অবহেলা করলে এক সময় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস কিংবা হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে। বয়স্ক ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে শীতকালীন ফ্লু আরো বেশি জটিলতা তৈরি করে।

অধ্যাপক সাজেদুর রহমান বলেন, শীতকালীন ফ্লূ এড়াতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, কাশি বা সর্দি থাকলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া খুবই জরুরি। জ্বর বা শরীর ব্যথায় প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে। ভাইরাল কোনো ফিভার হলে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু অ্যান্টিবায়োটিক নয়, কোনো ওষুধও নেয়া উচিত নয়।

যাদের শীত এলেই সর্দি শুরু হয়ে যায় এবং পুরো শীতকালেই থাকে তাদের উচিত ফ্লুর ভ্যাকসিন নিয়ে নেয়া। ভ্যাকসিন নিলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। ফ্লুর ভ্যাকসিন নিলেও অনেক সময় সর্দি হয়ে থাকে তবে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগতে হয় না। হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না।

তিন দিনের বেশি জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট, শিশুদের ক্ষেত্রে খাবার বা পানি গ্রহণে অক্ষম অথবা বয়স্কদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান।

নরোভাইরাস নামক এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে ব্রিটেনের মানুষ। এই ভাইরাসটিতে বৃদ্ধ, শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন লোকরা বেশি ভোগে। এটা ভোমিটিং বাগ হিসেবেও পরিচিত। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে আক্রান্তদের প্রচুর বমি হচ্ছে। এই ভাইরাসটি খুবই ছোঁয়াচে এবং জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে দেখা দেয়। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম (এনএইচএস) অনুযায়ী, সেখানে দৈনিক গড়ে ৬৪০ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

ব্রিটেনের সাথে বাংলাদেশের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এই ভাইরাসটি খুবই ছোঁয়াচে হওয়ায় বাংলাদেশে কোনোভাবেই যেন না ঢুকতে পারে সেদিকে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।