খাতা পুনর্মূল্যায়নে ফেল থেকে পাস ৪,৫৮৫, জিপিএ ৫ বেড়েছে ৩,০৭৯

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ফলে সারা দেশে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে তিন হাজার ৭৯ জন শিার্থী, আর ফেল থেকে পাস করেছে চার হাজার ৫৮৫ জন। বাংলাদেশ আন্তঃশিা বোর্ড সমন্বয় কমিটি গতকাল এই ফল প্রকাশ করে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিা বোর্ড, মাদরাসা শিা বোর্ড ও কারিগরি শিা বোর্ড মিলিয়ে মোট চার লাখ দুই হাজার ৫২ জন শিার্থী তাদের ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিল। পুনর্মূল্যায়নে মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিার্থীর গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫১টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন করা হয়েছে।

এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি ফল পুনর্নিরীণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছিল, আগে যা বোর্ডের নিয়মে ছিল না। এবার পুনর্নিরীণের জন্য চার লাখের বেশি পরীার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছিল, যার মধ্যে লিখিত পরীার উত্তরপত্রের জন্য আবেদন পড়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি এবং ব্যবহারিক পরীার খাতার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজারের বেশি।

গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত মূল ফলাফলে ৯টি সাধারণ শিা বোর্ডে পাসের হার নেমে আসে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। জিপিএ ৫ পাওয়া শিার্থীর সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কমে যায়। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি পরীার্থীর মধ্যে পাসের এই নি¤œ হার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রভাব পড়ে পুনর্নিরীণের আবেদনের সংখ্যায়।

যশোর বোর্ডে পাস ৩৮০

যশোর শিা বোর্ডে খাতা পুনর্নিরীণের পর মোট এক হাজার ৬৮৪ জন পরীার্থীর ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে আগে অকৃতকার্য থাকা ৩৮০ জন নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছে। এদের মধ্যে এফ গ্রেড থেকে এ গ্রেড পেয়েছে একজন, এ মাইনাস পেয়েছে তিনজন, বি পেয়েছে ৩৩ জন, সি পেয়েছে ১৯ জন এবং সবচেয়ে বেশি ৩২৪ জন পেয়েছে ডি গ্রেড।

জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও বেড়েছে যশোর বোর্ডে। আগে এ গ্রেড পাওয়া ৭৩১ জন পরীার্থী পুনর্নিরীণের পর জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আগে এ গ্রেড পাওয়া ১৯ জন এবং বি গ্রেড পাওয়া দু’জন পরীার্থীও নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে। অন্যান্য গ্রেড পরিবর্তনের মধ্যে এ মাইনাস থেকে এ পেয়েছে ৩০৮ জন, বি থেকে এ পেয়েছে ১২ জন এবং বি থেকে এ মাইনাস পেয়েছে ১৫০ জন।

সিলেটে জিপিএ ৫ বেড়েছে ১২১ : সিলেট শিা বোর্ডে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নে ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন শিার্থী এবং নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২১ জন। বোর্ডের পরীা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ২০ হাজার ৭৮৩ জন শিার্থী মোট ৫০ হাজার ৭১৩টি আবেদন করেছিল, যার মধ্যে দুই হাজার ৩২০ জনের প্রাপ্ত নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ২৮৬ জনের এবং গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ৯৮৬ জনের। সব মিলিয়ে সিলেট বোর্ডে দুই হাজার ৫৮৭ জন শিার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে, তবে ১৫৭ জন পুনর্মূল্যায়নের পরও ফেল রয়ে গেছে।

সিলেট বোর্ডে এবার এসএসসিতে নিবন্ধিত ছিল ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন, পরীায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন এবং পাস করে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। মূল ফলে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল তিন হাজার ৮৩৬ জন, পুনর্মূল্যায়নের পর যা আরো বেড়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৬০৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রী এক হাজার ৯২৪ ও ছাত্র এক হাজার ৬৮৪ জন। মানবিক ও ব্যবসায় শিাÑ দুই বিভাগেই জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে বেশি।