মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার দোখলা রেঞ্জ এলাকায় শাল ও গজারি গাছ কেটে বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রেঞ্জ কর্মকর্তার সহযোগিতায় এক শ্রমিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ কেটে বিক্রি করছেন। এতে মধুপুরের সংরক্ষিত শালবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোখলা রেঞ্জের অধীন দোখলা থেকে পীরগাছা সড়কের পাশের বাশবাগান এলাকায় গত ২ মার্চ প্রকাশ্যে শাল ও গজারি গাছ কাটা হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলটি বন বিভাগের অফিস থেকে খুব দূরে নয়। তবু প্রকাশ্যে গাছ কাটার ঘটনায় বন বিভাগের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফজলু দোখলা কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার নেতৃত্বে বনভূমি পরিষ্কার করে কৃষিজমি তৈরির কাজ চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কাটা গাছ অটো ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন জেত্রা বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত ফজলু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো শাল বা গজারি গাছ কাটার সাথে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন তনয়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।



