ট্রাম্প-পেত্রো বৈঠকের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-কলম্বিয়া সমঝোতা

Printed Edition
হোয়াইট হাউজে বৈঠকে ট্রাম্প ও  পেত্রো  : ইন্টারনেট
হোয়াইট হাউজে বৈঠকে ট্রাম্প ও পেত্রো : ইন্টারনেট

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো কয়েক মাস ধরে চলা বিরোধের পর হোয়াইট হাউজে মুখোমুখি বৈঠকের মধ্য দিয়ে সমঝোতার পর্বে প্রবেশ করেছেন। গত মঙ্গলবার উভয় প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেত্রো গত কয়েক মাস ধরে একে অপরকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন। একেবারে ভিন্ন মতাদর্শের এই দুই প্রতিনিধির মুখোমুখি সাক্ষাৎ কেমন হবে তা নিয়ে বিশ্লেষক ও পরামর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল; কিন্তু সেসব শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন তারা।

কিছু বিদেশী নেতাদের জন্য জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণকারী জাঁকজমকপূর্ণ যে কূটনৈতিক আয়োজন থাকে তেমন কিছু ছাড়াই হোয়াইট হাউজে হাজির হন পেত্রো। দুই নেতারা মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকের সময় গণমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। বৈঠক শেষে দুই নেতারা কেউ-ই পরিষ্কারভাবে বলেননি যে তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি হয়েছে; কিন্তু দুই নেতাই আলোচনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কলম্বিয়া থেকে আসা মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে তারা কোনো চুক্তিতে পৌঁছেছেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জানান, তারা দু’জন এ নিয়ে কাজ করছেন। ‘হ্যাঁ, আমরা করেছি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি আর আমরা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি। তিনি ও আমি ঠিক ভালো বন্ধু ছিলাম না; কিন্তু আমি অপমানিত বোধ করিনি কারণ আমার সাথে তার কখনো দেখাই হয়নি। আমি তাকে একেবারেই চিনতাম না,’ বলেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর পেত্রো এক্স এ ট্রাম্পের হাতে লেখা মন্তব্যসহ একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দুই নেতাকে হাত মেলাতে ও হাসতে দেখা যায়। আর তাতে লেখা ছিল, ‘গুস্তাভো-এক বিরাট সম্মান- আমি কলম্বিয়াকে ভালোবাসি।’

পেত্রো কলম্বিয়ার রেডিও স্টেশন কারাকোলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আমি যা দেখেছি ও অনুভব করেছি, সেগুলোকে আমার ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়েছিল- আমি সেগুলো সেখানে (হোয়াইট হাউজে) দেখতে পাইনি। আমার মনে হয় তারা তার (ট্রাম্পের) চেয়ে অন্য কর্মকর্তাদের সাথে বেশি ছিল।’

পেত্রো জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার বাইরে বসবাসকারী প্রভাবশালী মাদক পাচারকারীদের আটক করার জন্য তিনি ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন। তিনি আরো জানান, কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী একুয়েডোরের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ নিরসনে ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ করেছেন তিনি। ট্রাম্প একুয়েডোরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়াকে ফোন করতে রাজি হয়েছেন। একুয়েডোরের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট নোবোয়া ট্রাম্পের একজন দৃঢ় সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ মিত্র।