ইসলামের আদর্শের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে : এটিএম আজহারুল

Printed Edition
সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত
সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ.টি.এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও আদর্শ নেতৃত্বের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। নেতৃত্বের বিকাশ ও সাংগঠনিক মজবুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের কথা ও কাজের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে। একই সাথে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি শুক্রবার নগরীর মদিনা মার্কেটের একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে চারিত্রিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা:-এর চরিত্র ছিল কুরআন। তাই আমাদেরও কুরআনের আদেশ শতভাগ মেনে চলতে হবে এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকতে হবে। বিজয় দুই ধরনের- দলের বিজয় হলো জনসমর্থন পাওয়া ও ক্ষমতায় যাওয়া; আর ব্যক্তিগত সফলতা হলো জান্নাত প্রাপ্তি। তাই এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা জান্নাতে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। দুনিয়ার চাহিদার কোনো শেষ নেই। কিন্তু জান্নাতে যা দেয়া হবে, তাই হবে যথেষ্ট ও অতুলনীয়, যা কখনো কেউ কল্পনাও করেনি।

জামায়াতের প্রবীণ এ নেতা বলেন, দায়িত্বশীল ও কর্মীদের নিজেদের চরিত্র গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

পাঁচটি বিষয় থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে, হারাম খাবার গ্রহণ করা যাবে না, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে, গিবত করা যাবে না, অলসতা পরিহার করতে হবে এবং অধৈর্য হওয়া যাবে না।

এসব বিষয় থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে আদর্শ চরিত্র গড়ে তুলতে পারলে মানুষের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা জামায়াত নেতা ও সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল-মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর, মাওলানা আব্দুল মুকিত প্রমুখ।

শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর সব থানার মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রয়োজনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরো বিস্তৃত করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। একই সাথে সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।