রংপুর ব্যুরো
- পীরগাছা থানা ঘেরাও এলাকাবাসীর
- তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন
পুলিশি অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে রংপুরের পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন, নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ওসি সেলিম মালিকসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ছাত্রীকে উদ্ধারের অভিযানে তারই পরিবারের সদস্য মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অংশ নেন। মোনারুল তাদের চিনে ফেলায় তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগাছা থানার ওসি। ঘটনা তদন্তে সাভার ও রংপুর পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিক্ষোভে নিহত মোনারুলের বাবা জাফর আলী অভিযোগ করেন, তার ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সাথে মিন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই তরুণী বাড়ি থেকে চলে যান। এ ঘটনায় ২৩ জুলাই মিন্টু মিয়া পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জাফর আলীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে যায়। সেখানে মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালককেও পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। একপর্যায়ে মোনারুল ছাদে গেলে পুলিশ সদস্যদের সাথে তারাও সেখানে যান। মোনারুল তাদের চিনে ফেলায় তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে তার দাবি।
নিহতের বোন ও সৌমিকের মা শাহিনুর বেগম প্রশ্ন তোলেন, মিন্টু মিয়া ও তার শ্যালক পুলিশের সদস্য না হয়েও কিভাবে পুলিশের পোশাক পেলেন। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা কনক চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি করেন তিনি। বিক্ষোভে অংশ নেয়া স্থানীয় আওলাদ মণ্ডল বলেন, নিখোঁজ তরুণীর বাবা মিন্টু মিয়া তাদের ও ওই তরুণের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মোনারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর আলীর ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে থাকতেন। অভিযোগ অস্বীকার করে পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, অর্থের বিনিময়ে মিন্টু মিয়া বা অন্য কাউকে পুলিশের পোশাক সরবরাহ করা হয়নি। মিন্টু মিয়া অভিযানে থাকতে পারেন কি না, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তে দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনি কোনোভাবেই এর সাথে জড়িত নন।
সাভার থানা-পুলিশের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে। রংপুর পুলিশের গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে। রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক দেয়ার সুযোগ নেই। তবে পরিবার অভিযোগ করায় বিষয়টি তদন্তে রাখা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পীরগাছা থানায় কোনো মামলা করা হয়নি।



