অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হামাস-ইসরাইলের সাথে কুশনারের বৈঠক

Printed Edition

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার গাজা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে প্রথমে মিসরে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস এবং পরে ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করেছেন। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো বড় অগ্রগতি বা সফলতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে রোববার মিশরে হামাসের নেতাদের সাথে নজিরবিহীন এক একান্ত কূটনৈতিক বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। ২ ঘন্টারও বেশি সময় এই বৈঠক হয়েছে।

কুশনারের সাথে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাজা শান্তি পর্ষদের (বোর্ড অব পিস) মহাসচিব নিকোলায় ম্লাদেনভ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ওদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন নেতা খলিল আল-হায়া। এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে এলো যখন ওয়াশিংটন গাজার জন্য প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যে পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’।

তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এই শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী মনে করলেও গাজা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন গোষ্ঠীটির সাথে বৈঠক করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসকে নিষিদ্ধ, ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে দেখে। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে এই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যার বেশিরভাগই হয়েছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মার্কিন দূত কুশনার এবং হামাস নেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগকে মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও প্রভাষক মাহজুব জুয়েরি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, ফিলিস্তিনি সমাজে হামাস এমন এক রাজনৈতিক শক্তি যাকে উপেক্ষা করা যায় না- সেই বাস্তবতার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের নতিস্বীকারই বলা যায় কুশনারের প্রতিনিধি দল ও হামাসের মধ্যকার সরাসরি এই বৈঠককে। তিনি বলেন, হামাসকে কোণঠাসা করার ইসরাইলের চেষ্টার পরও ওয়াশিংটন স্বীকার করে যে, সমস্যার যে কোনো স্থায়ী সমাধানের জন্য হামাস একটি অপরিহার্য পক্ষ বা শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। আর এই বিষয়টিই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে আসছেন এবং তিনি মার্কিন নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী বলে উল্লেখ করেন জুয়েরি। ওদিকে, ইস্তাম্বুল-ভিত্তিক ‘ভিশন সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’-এর পরিচালক আহমেদ আতাবনা আলজাজিরাকে বলেছেন, ফিলিস্তিনি উপদলগুলো বর্তমানে মিশরীয়, কাতারি এবং তুর্কি মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী কৌশলগত আলোচনার অবস্থানে রয়েছে।