বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি (কম্বাইন্ড ডিগ্রি) চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে শিার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ফলাফলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিার্থীদের হাজবেন্ড্রি অনুষদের একাধিক কোর্সে অস্বাভাবিকভাবে অকৃতকার্য করানোকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। শিার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তারা মূল্যায়নে পপাতের শিকার হয়েছেন।
২০২৫ সালে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে শিার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিার্থী এএনএম এহসানুল হক হিমেলের ফলাফলকে ঘিরে ােভ তৈরি হয়েছে। লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফল প্রকাশের পর অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল দুই কোর্সেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে হিমেল তার আগের সেমিস্টারের ফলাফল ও নম্বরপত্র প্রকাশ করে সাম্প্রতিক ফলাফলের সাথে তুলনা করেন। তার দাবি আন্দোলনের আগে তার অ্যাকাডেমিক ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। লেভেল-২, সেমিস্টার-২ শেষে তার গড় সিজিপিএ ছিল ৩.৬৭১ এবং তখন পর্যন্ত কোনো কোর্সে ক্যারি (ফেল) ছিল না। তবে আন্দোলনের পর লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এ তার সিজিপিএ কমে ২.৯৪৬ হয়। পরের সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩.২৭৮ হলেও ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় কোর্সেই এফ গ্রেড এসেছে।
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও ‘অ্যানিমেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ দু’টি কোর্সেই সর্বোচ্চ গ্রেড এ প্লাস পেয়েছেন মাত্র তিনজন করে শিার্থী। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে তুলনামূলক ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে প্রত্যাশার তুলনায় কম ফল হওয়ায় শিার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবিতে লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর শিার্থীরা লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এর ফলাফল নিয়ে এবং লেভেল-২, সেমিস্টার-২-এর শিার্থীরা লেভেল-২, সেমিস্টার-১-এর ফলাফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমানের মাধ্যমে গত ২৬ জানুয়ারি পৃথকভাবে আবেদনগুলো জমা দেয়া হয়।
তবে আবেদনের ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল জানানো হয়নি বলে অভিযোগ শিার্থীদের।
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: বাহানুর রহমান বলেন, শিার্থীরা তাদের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল। এরপর তারা অনুষদের ডিনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর লিখিত আবেদন করে। আমি আবেদনগুলো একসাথে সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এসব আবেদনের পরিপ্রেেিত কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল সম্পর্কে জানতে পারিনি।
অভিযোগকারী শিার্থীকে বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যায়, এ জন্য বিস্তারিত বিবরণসহ আবেদন করতে হবে।



