বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন এবং ১৩টি মোটরসাইকেলসহ একাধিক দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে নামে। গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুটি গ্রুপ আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করলে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক ও লাভলু। গুরুতর আহত সাতজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক ডা: আব্দুল্লাহ আল মাসুম।
জানা যায়, উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন ও ভবিষ্যৎ মনোনয়নকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের মধ্যে।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ। এ সময় উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয় এবং আশপাশের ৮ থেকে ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধরা ১৩টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও হামলার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করেন, নাসির গ্রুপ বহিরাগত লোক এনে আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। অন্য দিকে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ঝুনু গ্রুপই আগে হামলা করেছে ও সহিংসতা উসকে দিয়েছে। বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, এমন সহিংসতা অপ্রত্যাশিত ছিল, তবে বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।



