প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সংস্কারে বরাদ্দ ৭০ হাজার টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোর মেরামত ও আধুনিকায়নে ৮২ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। সারা দেশের ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে কক্ষ সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন |ইন্টারনেট

  • সাড়ে ১২ শ’ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে মোট ব্যয় ৮২ কোটি টাকা

  • মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অগ্রাধিকার

শুধু ভোটারদের মধ্যেই নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির আমেজ দেখা যাচ্ছে ভোটকেন্দ্র সংস্কার কাজেও। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোর মেরামত ও আধুনিকায়নে ৮২ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। সারা দেশের ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে কক্ষ সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

ডিপিই সূত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারি পরিচালন ব্যয়ের আওতায় এসব বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৮২ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪২ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতিতে ব্যয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্যামেরার সংখ্যা নির্ধারণের কাজ চলছে। গত সপ্তাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের তালিকা ডিপিইতে জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শিগগিরই বিদ্যালয়ের সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় ক্যামেরার সম্ভাব্য হিসাব কমিশনে পাঠানো হবে। স্কুল ভবনের মেরামতের বাইরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আলাদা একটি তহবিল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেয়ার বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।

এর আগে জানুয়ারির শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চাহিদা পাঠাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেয় ডিপিই। বিষয়টি জরুরি উল্লেখ করে দুই দিনের মধ্যে নির্ধারিত ইমেইলে তথ্য পাঠাতে বলা হয়।

ডিপিইর চলতি দায়িত্বে থাকা পরিচালক (অর্থ) মো: মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ নয়া দিগন্তের প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে দুই দফায়- জানুয়ারি ও জুনে- শিক্ষার্থীসংখ্যার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হয়। বড় ধরনের উন্নয়ন বা অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজন হলে আলাদা আবেদন করতে হয়। নির্বাচন উপলক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মতো অতিরিক্ত কাজের অর্থ নির্বাচন কমিশন বা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আসবে। আমাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্র জানায়, যেসব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিয়মিত সংস্কারের অর্থ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে এলেও, নির্বাচন সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বহন করবে।