নিজস্ব প্রতিবেদক
- দলীয় কোন্দল ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব
ভাড়াটে কিলার দিয়ে হত্যা করানো হয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে। দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করলেও পেছনের কারিগররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মোছাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন শুটারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো শুটার জিন্নাত, পরিকল্পনাকারী মো: বিল্লাল, আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনাস্থল রেকিকারী মো: রিয়াজ। গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়ে জানান মহানগর ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ার হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আজিজুর রহমান মোছাব্বির (৪৪)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। এ ঘটনায় মোসাব্বিরসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সুফিয়ান বেপারী মাসুদ (৪০)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও হত্যার মোটিভ উদঘাটনে কাজ শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিবির কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ডিবির একাধিক আভিযানিক দল শনিবার রাজধানী ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই শুটারের একজন জিন্নাত, সমন্বয়কারী মো: বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো: রিয়াজকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের হেফাজত হতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আগে পুরো কাওরান বাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণে ছিল সাবেক কমিশনার ইরান, সুইডেন আসলামসহ কয়েকজনের হাতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় যুবলীগ নেতা সাব্বির আলম লিটুসহ অন্যরা। তাদের বাহিনী দিয়ে মাঠ পর্যায়ে চালাতে থাকে ব্যাপক চাঁদাবাজি। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে দেন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রকরা। ওই সময় নিহত মুসাব্বিরসহ সমগোত্রীয়রা নিয়ন্ত্রণ নেয় কাওরান বাজারসহ আশপাশের এলাকার। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ নিলেও মাঠ পর্যায়ের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে রয়ে যায় আগের আওয়ামী লীগের সেই বাহিনীর সদস্যরা।
এ দিকে সম্প্রতি এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন করে শেকড় বসাতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইডেন আসলামসহ তার সহযোগীরা। কিন্তু তাদের বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় মুসাব্বিরসহ কয়েকজন। প্রথমে দলীয় প্রভাবের কারণে মুসাব্বিরের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি সন্ত্রাসীরা। কিন্তু দলীয় কোন্দল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সুযোগ নেয় হত্যাকারীরা। তারা কিলার ভাড়া করে মুসাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ জন্য কাজ করে সুইডেন আসলামের ভাতিজা রাজ, কবীরসহ ওই গ্রুপের সদস্যরা।
ডিবি পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডের সন্ধানে নামছে ডিবি। ঘটনার নির্দেশদাতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।



