রূপপুরে অগ্নিকাণ্ড : নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেই, বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে হওয়ায় কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, আগুন লাগা অস্থায়ী ভবনটি মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে এবং প্রবেশাধিকার সীমিত এলাকারও বাইরে অবস্থিত। অগ্নিকাণ্ডে কিছু চেয়ার, আসবাব ও নথি পুড়ে গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথির ব্যাকআপ সার্ভারে থাকায় বড় ধরনের তি হয়নি। আগুনের কারণে প্রকল্পের কয়েকটি কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহেও সমস্যা দেখা দেয়।

জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ের সার্ভারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম তিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও য়তি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অন্য দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পাশাপাশি রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনিট-১-এর পিওআরভি (প্রেসার-অপারেটেড রেগুলেটরি ভালভ) নিয়ে সমস্যার কারণে কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ আটকে আছে। তিনটি ভালভের মধ্যে একটি কাজ করলেও অন্য দু’টি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড় মাস ধরে ভালভগুলো খুলে পরীা, আবার সংযোজন এবং তাপমাত্রা ও চাপসংক্রান্ত বিভিন্ন পরীা করা হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ রূপপুরে এসে কাজ করছেন। মন্ত্রী বলেন, ভালভে সমস্যা না হলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রুশ বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। মন্ত্রী জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রায় দুই হাজার ফাশ টেস্টসহ ৪৭টি পরীা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরো প্রায় ৯০টি পরীা করা হয়েছে। তবে ভালভের সমস্যার কারণে একটি পর্যায়ে এসে কমিশনিংয়ের কাজ আটকে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, রূপপুর প্রকল্পে ‘সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপ থাকলেও নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস করা হবে না। একই কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের বিষয়েও এখনই চূড়ান্ত সময়সীমা দিতে চাইছে না সরকার। প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দু’টি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে। দুই ইউনিটে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি বর্তমানে পরীামূলক ও কমিশনিং পর্যায়ে রয়েছে।