হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাদের একজন ঢাকা বিভাগের; একজন সিলেটের; আরেকজন খুলনা বিভাগের। সরকারের হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৮২৯ জনের মৃত্যু হলো। এর বাইরে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৩৮ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৩, বরিশালে ৪৯, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৭৯৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৩০৭ জন, রাজশাহীতে ১৯, সিলেটে ৯৬, চট্টগ্রামে ২১৫, বরিশালে ৮২, ময়মনসিংহে ২৭, খুলনায় ৩৯ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন।

এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে এক লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২০৮।

সিলেটে আরো ১ শিশুর মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হামে মৃত্যু থামছে না। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪১ জন। হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে।

শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৯৬ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৭, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন রয়েছেন।

বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩১ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬০, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৫, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আট, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৯৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩২৬, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। আক্রান্তের দিক থেকে সুনামগঞ্জে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ মাস ২৮ দিন বয়সী শিশু শিপুলের মৃত্যু হয়েছে। সে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর এলাকার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪১ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩১ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে, এ পর্যন্ত সিলেটে ৫৫, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকেও সুনামগঞ্জে সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।