রংপুর ব্যুরো
ভোট পুনঃগণনার দাবিতে রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ, কাউনিয়া ও পীরগাছায় বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা। এ সময় তারা আজ বেলা ১১টায় ডিসি অফিস অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এ দিকে ওই আসনে বিজয়ী এমপি আক্তার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ভাড়া করা লোক এনে বিএনপি প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে লাঠিসোটা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করলেও নির্বাচন কমিশন নিশ্চুপ। উল্টো আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের সাথে রাস্তায় বসে পড়েন পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাও। এ সময় তারা ভোট চোর ভোট চোর আখতার ভোট চোর, আখতারের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে ইত্যাদি স্লোগান দেয়। অবরোধের কারণে ঢাকার সাথে লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামের আড়াই ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিকেলে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পাপিয়া সুলতানাসহ নির্বাচন কমিশনের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তারা পরাজিত প্রার্থী ইমদাদুল ভরসার সাথে কথা বলেন। এরপর এমদাদুল হক ভরসা আইনের প্রতি বিএনপি শ্রদ্ধাশীল, হাই কমান্ডের নির্দেশ আছে জানিয়ে তিনটা ২০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত যানবাহনকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
অবরোধ প্রত্যাহার ঘোষণার আগে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ইউএনও, ডিসি এবং পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমার ফলাফল উল্টানো হয়েছে। সে কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার জনগণ রাস্তায় নেমে পড়েছেন। দ্রুত পুনঃফলাফল গণনা করতে হবে। কালক্ষেপণের মাধ্যমে আবারো ব্যালট বাক্সে আক্তার ব্যালট ঢোকাতে পারে। এই ধরনের আশঙ্কা আমার আছে। পুনঃভোট গণনার মাধ্যমে যে ফলাফল হবে সেই ফলাফল আমি মেনে নেবো।
কাউনিয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা তার সাথে কথা বলেছি তিনি অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।
এ দিকে বিকেল ৩টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন বলেছেন, ‘হারাগাছে এখন ভরসার ভাড়া করা লোকেরা যা করছে তা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসনের কর্তারা আলোচনার মাধ্যমে আইনগতভাবে এই সমস্যার সমাধান করুন। সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ নাই। পোস্টে আরো লিখেছেন, ‘যেসব মানুষ ভাড়া করে আনা হয়েছে তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভরসার নেতাকর্মী তাদেরকে লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এই আইন লঙ্ঘনের পরিস্থিতির দায়ভার বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। এখানে অধিকাংশ মানুষ কোনো কিছু না বুঝে, আইনের বিষয়ে অবগত নয়, দিনহাজিরার বিনিময়ে এসেছে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী পুনঃভোট গণনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু যারা এর মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে সে বিষয়েও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলী জানান, হারাগাছে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাঙচুরের বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং যে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



