তাঁবু সঙ্কটে গাজার লাখো ফিলিস্তিনি বন্ধের মুখে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ

Printed Edition
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিশুরা : ইন্টারনেট
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিশুরা : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত সাড়ে ২১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির জীবনযাত্রা চরম মানবেতর রূপ নিয়েছে, যাদের মধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। গাজার সরকারি তথ্য দফতর থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে এই মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আসন্ন শীতকে সামনে রেখে বড় ধরনের দুর্যোগের সতর্কবার্তা দিয়ে সংস্থাটি জানায়, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটানো এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাঁচ লক্ষাধিক শিশু রয়েছে। অবরুদ্ধ এই জনপদে আবহাওয়া-সহনশীল তাঁবু, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নির্মাণ সামগ্রী প্রবেশের পথ সুগম করতে ইসরাইল সরকারের ওপর জোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির তাগিদ দেয়া হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি এখন চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, মৌলিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও অসহায় মানুষদের প্রাথমিক স্বস্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সামরিক অভিযানের কারণে অবরুদ্ধ এলাকার বাসিন্দারা খাদ্য, পানি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চরম সঙ্কটে ধুঁকছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেসামরিক অবকাঠামোর ৯০ শতাংশই মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী, যা পুনর্নির্মাণে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে জাতিসঙ্ঘ প্রাক্কলন করেছে। এ দিকে তীব্র জ্বালানি ঘাটতির কারণে গাজা উপত্যকাজুড়ে সুপেয় পানীয় জল ও অপরিহার্য পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল প্রবেশের পথ খুলে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি জোর আকুতি জানিয়েছে গাজা স্ট্রিপ পৌরসভা ইউনিয়ন। একই সাথে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী অনুসরণে ইসরাইলকে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

পৌরসভা ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ভূখণ্ডের ৭০০টি বিদ্যুতায়িত জেনারেটরের মধ্যে মাত্র ৪০টির জন্য নামমাত্র জ্বালানি ছাড়ের অনুমতি মিলেছে। ডিজেলের চরম সঙ্কটে গাজার অধিকাংশ জল তোলার কূপ ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার জলকষ্টে ভুগছে। জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে অবিলম্বে মানবিক করিডোর উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।