একটি বিষয় স্পষ্ট- পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরছে না। সামনে যে বিশ্ব আসছে, সেখানে রাষ্ট্রের শক্তি নয়; রাষ্ট্রের কৌশলই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে কিছু বছর থাকে, যেগুলো কেবল একটি সময়কাল নয়; বরং একটি রূপান্তরবিন্দু। ২০২৬ সাল তেমনি এক সময়, যখন পুরনো বিশ্বব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে; কিন্তু নতুন ব্যবস্থাটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠেনি। এই শূন্যস্থানেই জন্ম নিচ্ছে সঙ্ঘাত, অস্থিরতা, দরকষাকষি ও নতুন সম্ভাবনা।
ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সঙ্কট, যুক্তরাষ্ট্র-চীন দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইউরোপের নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাষ্ট্রীয়করণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া- সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল কোনো একক ঘটনার বছর নয়; এটি পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থার পুনঃসংজ্ঞায়নের বছর।
২০২৬ সালের ভূরাজনীতির মূল প্রশ্ন একটিই- বিশ্ব কি নিয়ন্ত্রিত বহুমেরুকেন্দ্রিকতায় যাবে, নাকি বিশৃঙ্খল ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ঢুকে পড়বে?
একক আধিপত্যের অবসান ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতা : ঠাণ্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ২০২৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র আর এককভাবে বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণকারী শক্তি নয়; বরং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নেতৃত্বের অংশ।
চীন অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছে। রাশিয়া সামরিক শক্তিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ভারত নিজেকে ‘নন-অ্যালাইন্ড নয়, মাল্টি-অ্যালাইন্ড’ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্ক আঞ্চলিক ক্ষমতার নতুন সমীকরণ দাঁড় করাচ্ছে। ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বব্যবস্থা হবে বহুমেরুকেন্দ্রিক; কিন্তু সমন্বয়হীন- যেখানে শক্তি আছে; কিন্তু শাসন কাঠামো দুর্বল।
ভূরাজনীতির পরিবর্তনের বছর : ২০২৬ সাল সময়ের ধারাবাহিকতা নয়; বরং ক্ষমতা, রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মোড় ঘোরানো বাঁক। এটি কোনো একক যুদ্ধ, নির্বাচন বা চুক্তির বছরও নয়; বরং একটি রূপান্তরকাল, যেখানে পুরনো বিশ্বব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, অথচ নতুন বিশ্বব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। এই মধ্যবর্তী শূন্যতাই ২০২৬ সালের ভূরাজনীতিকে অনিশ্চিত, সঙ্ঘাতপ্রবণ এবং একই সাথে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘায়ন, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সঙ্কট, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাঠামোগত রূপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাষ্ট্রীয়করণ এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া- সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল হয়ে উঠছে বিশ্বব্যবস্থার পুনঃলেখার বছর।
২০২৬ সালকে ইতিহাসে শুধু আরেকটি বছর হিসেবে দেখা যাবে না। এটি এমন এক সময়, যখন বিশ্ব রাজনীতি প্রবেশ করছে সংহতি, দিকহীনতা ও শক্তিনির্ভর লেনদেনমূলক ব্যবস্থার দিকে। ইকোনমিস্ট এই বছরকে চিহ্নিত করেছে একটি মৌলিক পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে- যেখানে পুরনো নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা আরো ক্ষয়প্রাপ্ত হবে, আর নতুন কোনো স্থিতিশীল কাঠামো এখনো দৃশ্যমান নয়।
এই বাস্তবতার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পুনরাগমন, ইউরোপের কৌশলগত দ্বিধা, চীনের সুযোগসন্ধানী কূটনীতি, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বুদবুদ এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের জন্য তৈরি হওয়া নতুন দরকষাকষির পরিসর। ফলে ২০২৬ সাল হয়ে উঠছে বিশ্বব্যবস্থার পুনর্লিখনের বছর।
ভূরাজনৈতিক দিকহীনতা : নিয়ম থেকে প্রভাববলয়ে প্রত্যাবর্তন: যুক্তরাষ্ট্রের এই আত্মকেন্দ্রিক অবস্থান ২০২৬ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে- দিকহীন ভূরাজনীতি। দ্য ইকোনমিস্টের ভাষায়- বিশ্ব ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে নিয়মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থেকে এবং ঢুকে পড়ছে প্রভাববলয়ভিত্তিক রাজনীতিতে।
এই নতুন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইন, নীতি ও প্রতিষ্ঠান আর প্রধান নিয়ামক নয়; বরং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের প্রভাববলয় নির্ধারণ করছে ক্ষমতা, অর্থনীতি ও সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া- এই তিন শক্তিকে ঘিরেই গড়ে উঠছে ভিন্ন ভিন্ন বলয়, যেখানে ছোট ও মধ্যম রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ম নয়; বরং বাস্তবতার সাথে আপস করে টিকে থাকতে হচ্ছে।
এর ফল হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি ক্রমেই হয়ে উঠছে লেনদেনমূলক। নিরাপত্তা, বাণিজ্য কিংবা কূটনীতি- সব ক্ষেত্রেই আদর্শের জায়গা দখল করছে স্বল্পমেয়াদি লাভ ও কৌশলগত সুবিধা। ২০২৬ সালে কোনো রাষ্ট্রকে আর প্রশ্ন করা হচ্ছে না, ‘তুমি কোন নীতির পক্ষে?’ বরং জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, ‘তুমি কার বলয়ে, এবং কী দিতে পারো?’
এই প্রবণতা সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সেই দেশগুলোর জন্য, যাদের নিজস্ব শক্তি সীমিত কিন্তু ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেশি। নিয়ম দুর্বল হলে তারাই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। ফলে ২০২৬ সাল বিশ্বকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শক্তি আবার নীতির জায়গা দখল করছে, আর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
‘গ্রে-জোন’ রাজনীতি : যুদ্ধ ছাড়াই সঙ্ঘাতের বিস্তার : ২০২৬ সালের ভূরাজনীতির সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক হলো- বিশ্ব বড় যুদ্ধ এড়ালেও সঙ্ঘাতের তীব্রতা কমছে না; বরং যুদ্ধের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। ইউক্রেন ও গাজায় পূর্ণমাত্রার সামরিক সঙ্ঘাত হয়তো একটি ভঙ্গুর স্থবিরতায় পৌঁছাতে পারে; কিন্তু এর অর্থ শান্তি নয়; বরং বিশ্ব ঢুকে পড়ছে তথাকথিত ‘গ্রে-জোন কনফ্লিক্ট’-এর যুগে।
এই গ্রে-জোন সঙ্ঘাত এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে যুদ্ধ ঘোষণা নেই, সরাসরি আগ্রাসন নেই; কিন্তু ক্ষতি বাস্তব ও গভীর। রাশিয়া ও চীন ২০২৬ সালে পশ্চিমা জোটের প্রতিশ্রুতি ও সহনশীলতা পরীক্ষা করবে সাইবার আক্রমণ, তথ্যযুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও কৌশলগত অবকাঠামোতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে।
আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, সমুদ্রতলের কেবল নেটওয়ার্কে নজরদারি, স্যাটেলাইটে বিঘœ সৃষ্টি ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ- এ সবই নতুন যুদ্ধের ভাষা। এগুলোর প্রতিটির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে এর অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী।
২০২৬ সালে যুদ্ধ আর কেবল সেনাবাহিনীর বিষয় নয়; যুদ্ধ মানে এখন ডেটা, নেটওয়ার্ক ও নির্ভরতার উপর নিয়ন্ত্রণ। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যত নীরব দর্শক, কারণ গ্রে-জোন সঙ্ঘাতের জন্য কোনো স্পষ্ট বৈশ্বিক বিধান নেই।
আমেরিকার ২৫০ বছর : বিভক্ত স্মৃতি, বিভক্ত ভবিষ্যৎ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। ইতিহাসের এমন এক প্রতীকী মুহূর্ত সাধারণত জাতীয় ঐক্য, আত্মপর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির উপলক্ষ হয়ে ওঠে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই উদযাপন; বরং উন্মোচন করছে এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- দুই শিবিরই যুক্তরাষ্ট্রের অতীত, রাষ্ট্রীয় পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে পরস্পরবিরোধী ও আপসহীন বয়ান হাজির করছে।
এই বিভাজনের কেন্দ্রেই রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির পুনরাগমন। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আবারো বহুপাক্ষিকতা, জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার কূটনীতি ও মুক্ত বাণিজ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর নৈতিক নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে নয়; বরং লেনদেনভিত্তিক দরকষাকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে- যেখানে মিত্রতা স্থায়ী নয়, স্বার্থই চূড়ান্ত।
এই বাস্তবতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না; এটি গোটা বিশ্বব্যবস্থার উপর গভীর ছাপ ফেলছে। কারণ গত সাত দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সেই কেন্দ্রীয় শক্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, মানবাধিকার কাঠামো টিকে ছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে।
চীনের কৌশলগত সুযোগ : মন্দার মধ্যেও প্রভাব বিস্তার : ২০২৬ সাল চীনের জন্য দ্বিমুখী বাস্তবতার বছর। একদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ধীরগতি, রিয়েল এস্টেট সঙ্কট পুরোপুরি কাটেনি, যুব বেকারত্ব রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির পুনরুত্থান চীনের সামনে খুলে দিচ্ছে এক অনন্য কৌশলগত সুযোগ।
যুক্তরাষ্ট্র যখন বাণিজ্য, জোট ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আগ্রহ হারাচ্ছে, তখন চীন নিজেকে তুলে ধরছে গ্লোবাল সাউথের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের নতুন সংস্করণ, ঋণ পুনর্গঠন, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি- এ সবের মাধ্যমে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব আরো গভীর হচ্ছে।
২০২৬ সালে চীনের কূটনীতি আগের মতো উচ্চকণ্ঠ নয়; বরং নীরব, বাস্তববাদী ও লেনদেনভিত্তিক। তারা জানে, পশ্চিমা বিশ্ব বিভক্ত ও আত্মবিশ্বাসহীন- এটিই তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত পুঁজি।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা : যুদ্ধ নয়, স্থায়ী চাপ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেবে- এমন সম্ভাবনা কম। তবে এটি হবে এক ধরনের স্থায়ী কৌশলগত চাপের সম্পর্ক। তাইওয়ান ইস্যু সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকলেও আসল যুদ্ধক্ষেত্র হবে, সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ প্রযুক্তি; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই); কোয়ান্টাম কম্পিউটিং; ডিজিটাল কারেন্সি ও আর্থিক নেটওয়ার্ক।
এই প্রতিযোগিতামূলত রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র নয়; বরং সিস্টেম বনাম সিস্টেমের লড়াই- লিবারাল টেক-অর্ডার বনাম রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেক-অর্ডার।
ইউরোপের অসম্ভব সমীকরণ : বন্দুক, প্রবৃদ্ধি ও সবুজ ভবিষ্যৎ : ২০২৬ সালে ইউরোপ দাঁড়িয়ে আছে এক প্রায় অসমাধানযোগ্য সমীকরণের সামনে- বন্দুক, প্রবৃদ্ধি ও সবুজায়ন। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপকে বাধ্য করছে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর, শিল্প খাত চাপের মুখে, আর সামাজিক কল্যাণ ব্যয় কমানো রাজনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব।
এর সাথে যোগ হয়েছে জলবায়ু সঙ্কট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো নিজেকে বৈশ্বিক জলবায়ু নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু সবুজ রূপান্তরের খরচ, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং বাজেট ঘাটতি- এই তিনের সমন্বয় ২০২৬ সালে ইউরোপের অর্থনীতিকে চরম চাপে ফেলছে।
এই চাপের রাজনৈতিক ফলও স্পষ্ট। অভিবাসন সঙ্কট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তি শক্তিশালী হচ্ছে। তারা ইউরোপীয় ঐক্য, শরণার্থী নীতি এবং সবুজ অ্যাজেন্ডাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ফলে ইউরোপ ২০২৬ সালে একই সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু রাজনৈতিকভাবে দুর্বল এক মহাদেশে পরিণত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে ইউরোপ এখন আর নিশ্চিত নয়- সে কি স্বাধীন শক্তি হবে, নাকি বড় শক্তির প্রতিযোগিতার মাঠ।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য : দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাতের রাজনীতি : ২০২৬ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ কোনো দ্রুত সমাধানের দিকে যাবে না। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক ধরনের ফ্রোজেন কিন্তু সক্রিয় সঙ্ঘাতে, যেখানে যুদ্ধ চলবে; কিন্তু চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে না।
অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্যে গাজা যুদ্ধ একটি বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে- ইসরাইল আর প্রশ্নাতীত পশ্চিমা সমর্থন পাবে না। মানবাধিকার, যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন আবারো বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছে।
এই দু’টি সঙ্কট দেখাচ্ছে যে, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল; কিন্তু জনমত শক্তিশালী।
দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ : কৌশলগত সন্ধিক্ষণ : দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৬ সাল হবে রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও ভূরাজনৈতিক পুনঃসমন্বয়ের বছর।
ভারত চায় বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যা দিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগকে চ্যালেঞ্জ করবে না; আঞ্চলিক করিডোর ও কানেক্টিভিটিকে বাধাগ্রস্ত করবে না আর দিল্লির নিয়ন্ত্রক আধিপত্যকে মেনে নেবে। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে- নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা; মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং চীনবিরোধী ভারসাম্য। চীন চাইবে- অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা; অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ধারাবাহিকতা।
এই ত্রিমুখী চাপের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ২০২৬ সালের মূল চ্যালেঞ্জ হলো- কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা। জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ যদি একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে ২০২৬ সালে দেশটি ভূরাজনীতির বস্তু নয়; বরং একটি দরকষাকষির পক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
‘মিডল পাওয়ার’দের উত্থান ও নতুন কূটনীতি : ২০২৬ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- মধ্যম শক্তিগুলোর বাড়তি প্রভাব। আসিয়ান, জিসিসি, আফ্রিকান ইউনিয়ন, এমনকি লাতিন আমেরিকার কিছু দেশ বড় শক্তির দ্বন্দ্বের বাইরে থেকে নিজেদের কৌশলগত দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
যেমন- আসিয়ান, জিসিসি দেশ ছাড়াও ব্রিকস- গ্রুপের ভূমিকা দেশগুলোর (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা) প্ল্যাটফর্ম ২০২৬-এ গুরুত্ব পাবে, বিশেষত এআই, উন্নয়ন ও সাউথ-সাউথ সহযোগিতায়।
এটি ইঙ্গিত দেয়- বিশ্ব আর দ্বিমেরু বা ত্রিমেরু নয়; বরং নেটওয়ার্কভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামোতে প্রবেশ করছে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্য : সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা নিয়ে ইউরোপ বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছে, যা দৈনন্দিন রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে- নতুন ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার হবে খনিজ সম্পদ এবং বাণিজ্য-প্রতিযোগিতা। ভারত, চীন, ইউরোপ ও গাল্ফ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সঙ্ঘাতের বিভিন্ন ফ্ল্যাশপয়েন্ট এর মধ্যে ইউক্রেন, তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্নায়ুতন্তু হয়ে দাঁড়াতে পারে- এগুলো ২০২৬ সালের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো : বিশ্ব নতুন করে নিউক্লিয়ার স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আমেরিকা ও রাশিয়ার নিউ স্টার্ট চুক্তি মেয়াদ শেষ হতে পারে, যা পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণকে অনিশ্চিত করে তুলবে। অ্যাশিয়ান প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর, কোয়াড ঘাঁটি- এসব অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম তীব্র হবে।
রাষ্ট্রের নতুন পরীক্ষা : বৈধতা, সক্ষমতা ও কৌশল : ২০২৬ সাল কোনো পূর্বনির্ধারিত বিপর্যয়ের বছর নয়। এটি একটি সিদ্ধান্তের বছর। এই বছরে নির্ধারিত হবে- বিশ্ব কি নিয়মভিত্তিক নতুন কাঠামোর দিকে যাবে, নাকি শক্তিই আবার একমাত্র নীতিতে পরিণত হবে।
একটি বিষয় স্পষ্ট- পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরছে না; কিন্তু নতুন বিশ্বব্যবস্থা এখনো লেখা হচ্ছে। সেই লেখায় কারা কলম ধরবে, তা নির্ভর করবে কেবল সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নয়; বরং দূরদৃষ্টি, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ও নৈতিক সাহসের ওপর।
বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য ২০২৬ তাই একসাথে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার নাম। ইতিহাস অপেক্ষা করছে- কে সময়কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রশ্ন এখন আর ‘কে সবচেয়ে শক্তিশালী?’ নয়; বরং প্রশ্ন হলো- কে সবচেয়ে কৌশলী, কে সবচেয়ে অভিযোজনক্ষম এবং কে পরিবর্তিত বাস্তবতাকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপ দিতে পারবে?
২০২৬ সালে রাষ্ট্রগুলোকে তিনটি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে- বৈধতার পরীক্ষা : জনগণ রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে কি না; সক্ষমতার পরীক্ষা : রাষ্ট্র সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারে কি না এবং কৌশলের পরীক্ষা : রাষ্ট্র বৈশ্বিক বাস্তবতায় নিজের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে কি না।
যেসব রাষ্ট্র এই তিন পরীক্ষায় ব্যর্থ হবে, তারা শুধু ভূরাজনৈতিক চাপে পড়বে না- তারা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার শিকার হবে।
অসুরক্ষিত বিশ্বব্যবস্থা ও মানবিক সঙ্কট : নতুন বিশ্ব বিশৃঙ্খলা তথা আন্তর্জাতিক ঐক্যহীনতা, আইনের শাসনের দুর্বলতা এবং মানবিক সঙ্কট, বিশেষত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে- বিশ্ব রাজনীতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে।
একক-ভাগীদার বিশ্ব থেকে বহু-ভাগীদার বিশ্ব হয়ে যাচ্ছে, যেখানে শক্তি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা- সব কিছু একসাথে প্রতিযোগিতামূলক ও জটিল।
প্রযুক্তি ও এআই : নতুন ভূরাজনৈতিক অস্ত্র : ২০২৬ সালের ভূরাজনীতির সবচেয়ে গভীর পরিবর্তন আসবে প্রযুক্তি থেকে। এআই এখন আর শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এটি হয়ে উঠছে সামরিক সিদ্ধান্তের সহায়ক; নজরদারি ও তথ্যযুদ্ধের হাতিয়ার ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি।
উন্নত দেশগুলো এটিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইবে এবং এটি অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে। এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক নীতি, নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা- এসব নিয়ে সঙ্ঘাত ও সহযোগিতা একই সাথে বাড়বে।
রাষ্ট্রগুলো দুভাবে বিভক্ত হচ্ছে- একদল এআইকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায় আর অন্যদল এআইকে উন্মুক্ত রেখে উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রভাব বাড়াতে চায়।
এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে গণতন্ত্র বনাম কর্তৃত্ববাদের নতুন রেখা টানবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি : বন্ড সঙ্কটের অশনি সঙ্কেত : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুরক্ষা প্রসঙ্গে ওইসিডি ও আইএমএফ উভয়ই সতর্ক করেছেন যে বাণিজ্যবিরোধ ও সংরক্ষণবাদ বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে- যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। ট্যারিফ ও বাণিজ্য বাধা বিশ্ববাণিজ্যকে আবার সাজাতে পারে, ফলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আর্থিক নিরাপত্তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী স্যাংশন, ট্যারিফ ও আর্থিক নেটওয়ার্কের প্রতিযোগিতা (যেমন- সুইফট বনাম চিফস) অর্থনৈতিক ক্ষমতার জন্য যুদ্ধের মতোই জটিল হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁঁকি কোনো যুদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ঋণ ও বন্ড বাজার। উন্নত দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের সামর্থ্যরে বাইরে ব্যয় করে এসেছে- মহামারী, যুদ্ধ, জলবায়ু ও সামাজিক ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্ব পরিবর্তন (জেরোম পাওয়েলের সম্ভাব্য বিদায়) বাজারে এক বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সুদের হার নামতে পারে; কিন্তু বন্ড ইল্ড বা লাভ উচ্চই থেকে যেতে পারে; যা সরকার ও করপোরেট ঋণ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলবে।
এই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের উত্থান কেবল বিনিয়োগ প্রবণতা নয়; বরং ভূরাজনৈতিক অনাস্থার প্রতীক। ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম সাড়ে চার হাজার ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস আসলে রাষ্ট্র ও বাজার- উভয়ের গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন।
এআই অবকাঠামো : সম্ভাবনা ও বুদবুদের দ্বন্দ্ব : ২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এক পরীক্ষার বছর। বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ হচ্ছে ডেটা সেন্টার, চিপ, এজেন্টিক এআই ও অটোমেশনে। উৎপাদনশীলতায় কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে- বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে।
কিন্তু একই সাথে এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ একটি বুদবুদের ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক কোম্পানি বাস্তব মুনাফার আগেই বাজারমূল্য ফুলিয়ে তুলছে। জ্ঞানভিত্তিক চাকরিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত নয়।
২০২৬ সালে এআই আর শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়- এটি হয়ে উঠছে শ্রম, ক্ষমতা ও শ্রেণী রাজনীতির প্রশ্ন।
জলবায়ু বাস্তবতা : ১.৫ ডিগ্রি ছোঁয়ার বাইরে : ২০২৬ সালে বিশ্ব স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে- ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য কার্যত অপ্রাপ্য। যদিও কার্বন নিঃসরণ শীর্ষে পৌঁছেছে বলে ধারণা; কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অর্থায়নের ঘাটতি রূপান্তরকে ধীর করে দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভূতাপীয় শক্তি (এবড়ঃযবৎসধষ) উঠে আসছে নিশ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হিসেবে। শক্তি নিরাপত্তা ও জলবায়ু- দুটোর সংযোগস্থলে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিশেষত রাজনৈতিকভাবে অস্থির অঞ্চলে।
জলবায়ু সঙ্কট ২০২৬ সালে আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।
ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সফট পাওয়ারের নতুন লড়াই : ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো) কেবল খেলার আসর নয়; বরং কূটনৈতিক পরীক্ষার ক্ষেত্র। ভিসানীতি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার- সব কিছুই রাজনীতির অংশ।
এর পাশাপাশি লাস ভেগাসের ‘এনহেন্সড গেম’- যেখানে ডোপিং বৈধ-বিশ্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে : নৈতিকতা বনাম বাজার। ক্রীড়া এখন আর নিরপেক্ষ ক্ষেত্র নয়; এটি সফট পাওয়ার ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের লড়াই।
শেষ কথা : ২০২৬ সাল কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এটি একটি পরীক্ষামূলক বছর। এই বছরে নির্ধারিত হবে- বিশ্ব কি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে পারবে? নাকি শক্তিই আবার একমাত্র নীতি হয়ে উঠবে?
একটি বিষয় স্পষ্ট- পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরছে না। সামনে যে বিশ্ব আসছে, সেখানে রাষ্ট্রের শক্তি নয়; রাষ্ট্রের কৌশলই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০২৬ তাই হুমকির পাশাপাশি একটি বড় সুযোগও- যদি তারা ইতিহাসের প্রবাহ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের ভেতর দক্ষিণ এশিয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অনাগ্রহ এবং গ্লোবাল সাউথের পুনর্বিন্যাস- সব কিছুর সংযোগস্থলে বাংলাদেশ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হবে- সে কি কেবল ভূরাজনীতির অবজেক্ট থাকবে, নাকি কৌশলগত সাবজেক্ট হয়ে উঠবে? বাণিজ্য, শ্রম, প্রযুক্তি ও কূটনীতিতে ভারসাম্যই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। হ



