চরফ্যাসন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাচন অফিসে ব্যক্তির নিজস্ব আবেদন ও সম্মতি ছাড়াই ভোটার এলাকা এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে স্থানান্তরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার না জানিয়ে রাতারাতি ভোটার এলাকা বদলে দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় অসাধু কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে গতকাল রোববারা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চরফ্যাসন উপজেলার ১০ নম্বর হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে লড়ার জন্য এ পর্যন্ত চারজন প্রার্থী আত্মপ্রকাশ করেছেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রার্থী ও স্থানীয়দের সম্পূর্ণ অজান্তে চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজনেরই ভোটার এলাকা অন্য ইউনিয়নে স্থানান্তর করে দেয়া হয়েছে। পদপ্রার্থী ও হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন মঞ্জু জানান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল শহীদ প্রথম বিষয়টি টের পান। নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয়ে জাহানপুর ইউনিয়নে চলে গেছে দেখে তিনি অন্যান্য প্রার্থীদের বিষয়টি জানান।
এরপর সন্দেহ হলে হাসনাইন মঞ্জু অনলাইন নির্বাচন সার্ভারে নিজের তথ্য যাচাই করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, ১০ নম্বর হাজারীগঞ্জ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে জাহানপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি জানার পরপরই হাসনাইন মঞ্জু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমিক রহমানকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করেন। কর্মকর্তা আগামী রোববারের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচন অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত একদল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অনিয়মের সাথে জড়িত।
চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৌমিক রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা নিজেরা ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেননি। সম্ভবত তাদের আইডি কার্ড ব্যবহার করে দুষ্টু প্রকৃতির কোনো চক্র এই আবেদনটি করে থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া আমাদের অফিসের কেউ যদি এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চরফ্যাসন ইউএনও রুমানা আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আবেদন ছাড়া ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। লিখিত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।



