আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর কিশোরগঞ্জের নিকলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোয়াইজনী নদীসংলগ্ন চৈতালির হাওরে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। স্থানীয় নাগরিক কমিটি নিকলীর উদ্যোগে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।
বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নিকলীর বিভিন্ন সড়ক ও নৌপথে মানুষের ঢল নামে। নিকলীর পাশাপাশি বাজিতপুর, কটিয়াদী, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, কুলিয়ারচরসহ কিশোরগঞ্জ শহর থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। অনেকেই নৌকা ভাড়া করে হাওরের পানিতে অবস্থান নিয়ে বাইচ উপভোগ করেন।
দর্শনার্থীরা জানান, বর্ষাকালে নিকলীর নৌকাবাইচ একসময় এলাকার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। দীর্ঘদিন আয়োজন বন্ধ থাকায় তারা এ বিনোদন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার বাইচের আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে তারা ছুটে এসেছেন। প্রতি বছর এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও জানান তারা।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, তারা সকালে নিকলীর হাওর ঘুরতে এসেছিলেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বাইচের খবর পেয়ে নৌকা ভাড়া করে প্রতিযোগিতা দেখতে যান।
আয়োজকদের দাবি, প্রতিযোগিতা ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। অনেকের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনও বেড়াতে আসেন।
আয়োজকরা জানান, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। একসময় নিকলীতে ভাদ্র মাসের প্রথম দিন নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। সময়ের সাথে এ আয়োজন বন্ধ হয়ে গেলেও স্থানীয়দের উদ্যোগে এবার তা আবার শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তিনি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোশতারী কাদেরিসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক নাগরিক কমিটি নিকলীর সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সাদু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনায় ছিলেন মোহাম্মদ মাহবুব।
হাওরের জলরাশিতে নৌকার ছুটে চলা, বৈঠার ছন্দ ও দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে দিনভর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে নিকলীতে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নৌকাবাইচের এই আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।



