রফিকুল হায়দার ফরহাদ
বিশ^কাপ ফুটবলের বছর ২০২৬। এই বছর ৪৮ দলের বিশ^কাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো-কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই হবে এই আসর। বিশ^ ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশ স্রেফই দর্শক। কারণ বাংলাদেশের কোনো সুযোগই নেই বিশ^কাপে খেলার। তারা সেই মিশন থেকে যোজন-যোজন দূরে। তবে এই নতুন বছরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দু’টি বিশ^কাপে খেলার ছাড়পত্র পাওয়ার মিশন। মার্চে নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে সেরা ছয়-এ থাকতে পারলেই মিলবে ২০২৭ সালে ব্রাজিল বিশ^কাপে খেলার সুযোগ। আর এপ্রিলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল যদি এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের সেরা চারে উঠতে পারে তাহলে মিলবে বিশ^কাপের টিকিট। এ বছরই পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল বিশ^কাপ। এ ছাড়া সাফের ৯টি আসর আছে এবার। এর মধ্যে সিনিয়র পুরুষ ও নারী সাফ। এ ছাড়া মার্চে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরে গিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের শেষ অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে।
১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, পার্থ ও গোলকোস্টে হবে নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ড। এতে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানকে। বাংলাদেশ যদি সম্মানজনক হার বরণ করে চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে এবং শেষ ম্যাচে যদি হারিয়ে দেয় উজবেকিস্তানকে তাহলে গ্রুপে তৃতীয় হতে পারবে। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ মিলে দু’টি করে মোট ছয় দল এবং তিন গ্রুপের তিনটি তৃতীয় হওয়া দলের সেরা দু’টি খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এই কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলেই বিশ^কাপে খেলার সুযোগ। আর শেষ আটে ওঠার সাথে সাথেই ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে খেলার ছাড়পত্র পাওয়া।
নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ‘এ’ গ্রুপে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন। ‘সি’ গ্রুপের চার দল চাইনিজ তাইপে, ভারত, জাপান ও ভিয়েতনাম। খুব সহজ সমীকরণেই বাংলাদেশ নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারবে। এ জন্য ‘এ’ ও ‘সি’ গ্রুপের তিন নম্বর ও চার নম্বর দলকে একটি করে পয়েন্ট পেতে হবে এবং বাংলাদেশকে ‘বি’ গ্রুপ থেকে তিন পয়েন্ট পেতে হবে। তাহলেই তৃতীয় স্থান পাওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দ্ইুয়ে থাকা হবে। ধরুন ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও ফিলিপাইনকে অস্ট্্েরলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারতে হবে এবং ইরান ও ফিলিপাইনকে নিজেদের ম্যাচে ড্র করতে হবে। এবং ‘সি’ গ্রুপে ভারত ও চাইনিজ তাইপেকে জাপান ও ভিয়েতনামের কাছে হারতে হবে এবং নিজেরা ড্র করতে হবে পরস্পরের ম্যাচে। তাহলে বাংলাদেশ গ্রুপে একটি জয় পেলেই কোয়ার্টারে উঠবে। কোয়ার্টারে হারলেও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলার সুযোগ মিলবে। সেখানে জিতলেও বিশ^কাপে।
অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে সেরা চার দল উঠবে বিশ^কাপে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ আসরের ফাইনাল রাউন্ডে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও চীনের সাথে। চীনকে শক্তিশালী ধরেই বাংলাদেশ যদি হারাতে পারে সমশক্তির থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামকে তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ আটের ম্যাচে জিতলেই বিশ^কাপ নিশ্চিত। বাংলাদেশ গ্রুপে তৃতীয় হলেও নক আউটে উঠতে পারবে। এ জন্য তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হবে। অবশ্য বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ‘বি’ অথবা ‘সি’ গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলকে কোয়ার্টারে পাবে। তখন উজবেকিস্তান বা জর্দান অথবা ভারত বা চাইনিজ তাইপেকে পাবে। তবে রানার্সআপ বা তৃতীয় হলেই কঠিন প্রতিপক্ষ। দুই কোরিয়া বা জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো একটি দল হবে প্রতিপক্ষ।
অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের ‘বি’ গ্রুপে আছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, উজবেকিস্তান ও জর্দান। ‘সি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জাপান অস্ট্রেলিয়া, চাইনিজ তাইপে ও ভারত।
দুই বিশ^কাপে কোয়ালিফাই করার জন্যই অনুশীলনে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। এখন তারা লিগ খেলছে।
এই বছর অনুষ্ঠিত হবে সিনিয়র নারী ও পুরুষ সাফ। যদিও এখন পর্যন্ত এই দুই আসরের ভেন্যু ও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এবার সাফ কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৩ জানুয়ারি থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হবে সাফ ফুটসাল নারী ও পুরুষ আসর। ৩১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের পোখরায় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ। মার্চে মালদ্বীপে অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফ। এপ্রিলে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ। আগস্টে অনূর্ধ্ব-১৭ পুরুষ সাফ।
তবে গত বছর নারী সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ হলেও এ বছর সাফ পুরুষ ক্লাব কাপ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।



