জুনায়েদ হাবীব ও রুমিন ফারহানার পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
Printed Edition

নির্বাচন ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের আংশিক) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচনী মাঠে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানা। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রতীক বিতর্কে এই আসনের রাজনীতি ক্রমেই তীব্র মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আশুগঞ্জ হাজী আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি জোট প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

দোয়া মাহফিলে রুমিন ফারহানাকে ইঙ্গিত করে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, কে কোথা থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হলো, সেগুলো দেখার সময় নেই। তিনি দাবি করেন, বিপুল ভোটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদেরকে খেজুর গাছ প্রতীককে ধানের শীষ মনে করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মাহফিল শেষে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল মঞ্চে উঠে জুনায়েদ আল হাবীবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, এই আসনে খেজুর গাছই ধানের শীষ। মাহফিলে বিএনপির একাধিক নেতা রুমিন ফারহানাকে বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত উল্লেখ করে বক্তব্য দেন।

এরপর সরাইল উপজেলায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সদর আসনের এমপি সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকায় মাতব্বরি করতেন। এখন আবার আরেকটি জোট থেকে ‘রোহিঙ্গা’ এনে একইভাবে এখানকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ এখানকার মানুষকেই নির্বাচিত করবে এবং বাইরের কোনো প্রভাব মেনে নেবে না।

অন্য এক সভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমাকে দেখেছে। তখন আমার দলের অন্য কোনো নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি। হ্যাজাক বাতি দিয়েও তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যেত না। তিনি একটি গানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।’

রুমিন ফারহানার এসব বক্তব্য জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার প্রসঙ্গ নিয়ে গত রোববার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে পাল্টা জবাব দেন জুনায়েদ আল হাবীব। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আমার বাড়ি কি বার্মা বা আরাকানে?’ উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে সাড়া দিলে তিনি বলেন, তার বাড়ি শরীফপুর গ্রামের কাছেই অষ্টগ্রামে। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নিরাপদ থাকবে বলেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সাথে জোট করেছে।

ওই সভায় রুমিন ফারহানাকে কটাক্ষ করে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খা বক্তব্য দেন এবং খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দিয়ে জুনায়েদ আল হাবীবকে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান।

এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মূলত এই দুই প্রার্থী। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণে ভোটের পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে।