সাক্ষাৎকার : ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

জাতীয় স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের ৩ প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি

বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই তিনটি প্রকল্পের কাজ সরকারের উচিত অবিলম্বে শুরু করা। এগুলো হচ্ছে লালমনিরহাট এভিয়েশন, ফেনীতে ডিফেন্স ইপিজেড ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রয়োজনে তিনটি প্রকল্প অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদম তৈরি করে গেছেন। বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই এ তিনটি প্রকল্পের কাজ সরকারের উচিত অবিলম্বে শুরু করা। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে লালমনিরহাট এভিয়েশন, ফেনীতে ডিফেন্স ইপিজেড ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প। শাহরিয়ার কবির দাবি করেন এ তিনটি প্রকল্পের প্রবল বিরোধিতা করে আসছে ভারত। ভারতের সাথে সমঝোতা না করলে এ সরকারের উচিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা।

ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, লালমনিরহাটে এভিয়েশন প্রকল্প, ওই পুরনো বিমানবন্দরটির আধুনিক ও মিলিটারি হাব করা হচ্ছে এ প্রকল্পের অংশ। যাতে ওখানে চিকেন নেকটা সংরক্ষিত থাকে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে ফেনীতে ৯০০ একর জমিতে ভারতকে দেয়া স্পেশাল জোন প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে ঠিক একই কারণে। ওটাও একটা চিকেন নেক। ওখানেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি জড়িত। তাই শুধু ড্রোন কারখানা নয় ওখানে ফুলপ্লেজেড ডিফেন্স ইপিজেড করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আধুনিক সেনাবাহিনীর একটা উপস্থিতি থাকবে। ওই চিকেন নেকটা বন্ধ হয়ে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা ফেনিতে ৯০০ একর জমি ভারতকে ইজারা দিয়ে কার্যত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এজন্যই ইউনূস সরকার এসে প্রকল্পটিকে বাতিল ঘোষণা করেছে।

নয়া দিগন্ত : সরকার তো খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। ভারতের সাথে অভিন্ন নদীর পানি হিস্যা নিয়ে চুক্তি আছে, তো কেন তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এত জরুরি?

শাহরিয়ার কবির : ভারতের সাথে গঙ্গা পানি চুক্তি যেটা হয়েছে সেটা কখনো কার্যকর করা সম্ভব না। নদীর পানি ভাগ করা বিশ্বে কোনো স্থানে বাস্তবায়ন হয়নি। আমেরিকাতে মিসিসিপি নদী বলেন, সব জায়গায় নদী ভাগ করে নেয়া হয়েছে। সিন্ধুতে ভারত ও পাকিস্তান নদী ভাগ করে নিয়েছে। চুক্তিতে লেখা আছে কোন কোন নদী ভারত নিবে বা কোন কোন নদী পাকিস্তান নেবে। ইনডাস ওয়াটার ট্রিটি ছিল তাই। গঙ্গা চুক্তির নামে শেখ হাসিনা যে ভাওতাবাজি করেছেন। দেখুন গঙ্গার উজানে ভারতেই পানি নাই, ভাটিতে বাংলাদেশে পানি আসবে কোত্থেকে? এখানে হওয়া উচিত ছিল যে ঠিক আছে, ভারত গঙ্গা থেকে পানি নিচ্ছে তো বাংলাদেশকে মেঘনা নদীর পানি ছেড়ে দাও। মেঘনার উজানে ভারত কোনো বাঁধ দিতে পারবে না। ব্রহ্মপুত্রে কোনো বাঁধ দিতে পারবে না ভারত। এই ধরনের চুক্তি করেনি হাসিনা। যেখানে নদীতে পানি থাকে না, বাংলাদেশ লোয়ার রিপানিয়ান বা ভারতের উজান অববাহিকার বিপরীতে ভাটি অববাহিকায় মানে ডাউন স্ট্রিমে অবস্থিত। আপার স্ট্রিম হচ্ছে পাকিস্তান ও ভারত। পানির ধর্ম ওপর থেকে নিচের দিকে নেমে যাওয়া। আপনি কোন খালটার সাথে কোন নদীর সংযোগ করতে পেরেছেন যে খালের পানি নদীতে আসবে তারপর তা আটকে রাখা হবে। যেখানে নদী ভরাট হয়ে গেছে পানি না থাকায়, নদীতে ড্যাম বা রিজার্ভার তৈরি করতে হবে পানি আটকিয়ে রাখার জন্য। এজন্যই বলা হয়েছিল তিস্তা প্রকল্প। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশে নদী ভাঙনের পরিবর্তে ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বন্যা ও খরায় পানি সঙ্কটের একটা স্থায়ী সমাধান হতো। তিস্তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে চীন ঈশ্বরদীতে একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে ফারাক্কার পানি যখন খুশি তখন ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে যে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা যেন না হয়। এর বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খান কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিরাট রিজার্ভার করেছেন। গত ৫৩ বছরে এ দেশে কোনো সরকার এরকম কোনো রিজার্ভার করেনি। কৃষি সেচে ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরিবেশ ও ভূগর্ভস্ত স্তরের ক্ষতি হচ্ছে। আগে নদীর পানি দিয়ে সেচ হতো। কৃষি সেচের খরচ পড়ত না। জালানি তেলের ব্যবহার না হওয়ায় কৃষি খরচ কম হতো। খাল থেকে কৃষি সেচ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ তিনটি প্রকল্পের সাথে সরাসরি ইন্ডিয়ার স্বার্থ জড়িত। এ তিনটি প্রকল্পে বিনিয়োগ হলে এর পরিমাণ হবে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। তেত্রিশ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হলে বাংলাদেশ বৈষয়িকভাবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে। দুর্ভিক্ষ হবে না। এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল চীনের। কিন্তু ভারত বলে দিয়েছে এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। এই আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মধ্যে দিয়ে কথা দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে কী না জনমনে প্রশ্ন উঠছে। কেন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে না গিয়ে সরকার অন্যসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

নয়া দিগন্ত : খালের পাশাপাশি নদী খননও তাহলে জরুরি?

শাহরিয়ার কবির : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করোতোয়া বা আত্রাই নদী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খনন কর্মসূচি শুরু করতে পারতেন। উনি দুবাই বা জেদ্দায় দেখেছেন যেভাবে নদী শাসন করা হয়েছে, ঢাকার চার পাশে ওভাবে নদী শাসন করা যেত। উনি তা করছেন না। সংবিধানের আর্টিকেল এইটিফাইভের চ্যাপ্টার টু পুরোপুরি তারা লঙ্ঘন করেছেন। এভাবে তারা তাদের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছেন।

নয়া দিগন্ত : জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কি সরকারের সাথে বিভেদ বাড়ছে?

শাহরিয়ার কবির : সরকারের তরফ থেকে যে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে সংবিধানের মধ্য দিয়ে- এটা একটা ধাপ্পাবাজি। আর্টিকেল ওয়ান ফোরটি টুতে বলা আছে সংবিধানে কী কী পরিবর্তন করা যাবে। সংবিধানের কোনো বেসিক স্ট্রাকচার পরিবর্তন করা যাবে না। অষ্টম সংশোধনী মানে আনোয়ার হোসেন মামলায় অ্যাপিলেট ডিভিশন নির্ধারণ করল টু থার্ড মেজরিটি দিয়ে সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচার চেঞ্জ করা যাবে। এখন যাদের এই ধাপ্পাবাজিটা দেয়া হচ্ছে তা আমাদের এই সংবিধানের, যা জুলাই সনদে নিয়ে আসা হয়েছে। সবই বেসিক স্ট্রাকচারে অন্তর্গত। যেমন প্রতি বিভাগে হাইকোর্ট স্থাপন। আপার হাউজ করবেন। সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে স্বায়ত্তশাসিত করবেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াবেন। এগুলো আর্টিকেল হান্ড্রেড ফোরটি টু দিয়ে পরিবর্তন করতে পারবেন না। পারবেন না বলেই সংস্কারের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে, পরিবর্তনের কথা বলা হয় নাই। এই সংবিধানই ফ্যাসিস্টের জন্মদাতা বলেই বেগম খালেদা জিয়া জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে বলেছিলেন। এই সংবিধান রেখে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। এই যে হান্ড্রেড অ্যান্ড ফোরটি টুয়ের ধোঁকাবাজি দেয়া হচ্ছে এটা যে হবে না, সংবিধান সংস্কার পরিষদ লাগবে, সে জন্যই আনোয়ার হোসেন মামলা থেকে পরে ফিফটিন অ্যামেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে জনগণ তার অভিপ্রায়ের ক্ষমতা দিয়ে যদি কোনো সংবিধান পরিবর্তন করে তাহলে সেটা কোর্ট ও সংসদ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। জনগণের সেই অভিপ্রায় বাস্তবায়ন হবে রেফারেন্ডাম বা গণভোটের মাধ্যমে। ১৯৭৭ সালে রেফারেন্ডাম ছিল না, জিয়াউর রহমান রেফারেন্ডাম নিয়ে আসলেন, তারপরই এর বিধান সংবিধানে সংযোজিত হলো। এখনকার ফরমেটে জুলাই সনদের যা যা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি এটা আর্টিকেল ওয়ান ফোরটি টুয়ের আন্ডারে করা যাবে না। এই সংবিধানকে অবশ্যই অবশ্যই সংস্কার করতে হবে।

নয়া দিগন্ত : কিন্তু সরকার তো সংবিধান থেকে এক চুলও নড়তে নারাজ।

শাহরিয়ার কবির : বিএনপি সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, একটা কাজও সংবিধানের মধ্যে করছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি। এবং সংবিধান মেনে সামনের দিনগুলোতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অথচ যখনি জুলাইয়ের কথা আসছে তখনি সংবিধান। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সংবিধান নাই। এর এক্সপ্লেনেশন কিন্তু সালাউদ্দিন সাহেব দিতে পারবেন না। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা তিনি বাজেট অধিবেশনে পাস না করে তিনি দিলেন কোত্থেকে? এটা অর্থমন্ত্রীর দেয়ার কথা। কিন্তু সব মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য সালাউদ্দিন সাহেব দিচ্ছেন। সালাউদ্দিন সাহেব বলুক ফার্মার্স কার্ডের টাকা উনি কোত্থেকে দেবেন। খাল খননের টাকা তো গত বাজেট অধিবেশনে নাই। বাজেট অধিবেশন না আসা পর্যন্ত এ প্রোগ্রামগুলো উনি নিচ্ছেন কিভাবে? সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করছেন, এর বিধান সংবিধানে নাই। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান চুলায় যাক। যেটা যেটা আমার দরকার সেটা সেটা আমি করব। যেটা যেটা আসার দরকার নাই সেটা করব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আপনি নিয়োগ দিতেই পারেন। কিন্তু প্রশাসন বা সব জায়গায় আপনি দলীয়করণ করতে পারেন না। জেলায় জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করছেন। পাবলিক ফান্ডের টাকাটা যে আপনি দিচ্ছেন এ টাকা দেয়ার অনুমতিটা সেটা সংসদের অনুমোদন ছাড়া আপনি দিতে পারেন না। পার্লামেন্টে আসার আগে থোক বরাদ্দের টাকা দিলেন, এখনো জুন মাস আসেনি, বাজেট আসেনি, প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়নি, সেই বরাদ্দ পাস করা হয়নি, বাজেট না আসা পর্যন্ত সেই ফান্ড আপনি কোত্থেকে পাচ্ছেন? পাবলিক ফান্ডের টাকাটা আপনাকে দেয়ার অনুমোদনটা কে দিলো? কৃষক কার্ডের টাকার সঙ্কুলান তো বাজেটে নেই। চাইলেই টাকাটা আপনি যেখানে খুশি সেখানে খরচ করতে পারেন না। এ বাজেটতো পাস করেছে গত অন্তর্বর্তী সরকার, যেখানে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের তো বরাদ্দ নাই। বরাদ্দ না থাকলে আপনি এটা দিচ্ছেন কোথা থেকে?

নয়া দিগন্ত : বিএনপির ইস্তেহারে তো খালকাটা কর্মসূচি ছিল। এ কর্মসূচির জন্যই তো জিয়াউর রহমান মানুষের স্মৃতিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

শাহরিয়ার কবির : রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে খালকাটা কর্মসূচি নিয়ে এসেছে ফের বিএনপি। জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি হলেন তখন কাজী জাফর আহমেদ, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া বৈঠকে বসলেন যে, জিয়াউর রহমানকে কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়, তাকে জনপ্রিয় করা যায়। শহীদ জিয়াউর রহমান সবচেয়ে ভালো কী পারেন তখন সবাই জিজ্ঞেস করলেন। জিয়াউর রহমান মাইলের পর মাইল হাঁটতে পারতেন। সেনাবাহিনীতে যারা আছেন তাদের ১০ মাইল ২০ মাইল হাঁটতে হয়। জিয়াউর রহমান বিরামহীনভাবে হাঁটতে পারতেন। যাদু মিয়া বললেন, এমন প্রকল্প করা হোক যেখানে হেলিকপ্টার থেকে নেমে জিয়া তিন চার মাইল হেঁটে যাবেন, মানুষের সাথে তার দেখা-সাক্ষাৎ হবে, তিনি বসবেন, তাদের সাথে কথা হবে। এভাবে খাল কাটা একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি হলো।

নয়া দিগন্ত : তো খালকাটা কর্মসূচি থেকে তো এখনো উপকৃত হতে পারে মানুষ।

শাহরিয়ার কবির : আমাদের দেশে যতগুলো খাল কাটা হয়েছে এগুলো কোনো রিজার্ভারের জন্য কাটা হয়নি। নৌপথ সৃষ্টি, স্থানীয় যোগাযোগ ও পানি ধরে রাখার জন্য খাল কাটা হয়। মিসরে সুয়েজ খালের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা বা জামাল আব্দুল নাসেরের মতো বিরাট রিজার্ভার বাংলাদেশে নাই। বগুড়ায় করতোয়া, নওগাঁয় আত্রাই, ছোট যমুনা নদীতে পানি বলে কিছু নাই। বাংলাদেশের অনেক নদী ফারাক্কা বাঁধে ও ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকিয়ে মারা গেছে। ভরাট হয়ে গেছে। আগে এসব নদীর পানি দিয়ে কৃষি সেট হতো। নদীতে পানি নাই, খালে পানি আসবে কিভাবে। খাল কাটা কর্মসূচি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে পারত সরকারি দল বিএনপি। রাজনৈতিক স্টানবাজি করার জন্য খাল কাটার ছবি তোলা, অনেকে বলছেন আরেক জিয়াউর রহমান, এটা শুনতে ভালো লাগে, অর্থনীতিতে এ কর্মসূচি যদি কন্ট্রিবিউট না করে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড আগেও করা হয়েছিল, বিএনপির আগের শাসনামলে অনেক কৃষক মারা গিয়েছিলেন সারের আন্দোলনের কারণে। একই কর্মসূচি থেকে রাষ্ট্র যদি কোনো বেনিফিট না পায়, তাহলে সে কাজ করবেন কেন?

সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডাকে গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদকে ডাইভার্ট করছে। জুলাই আন্দোলন হচ্ছে শাসনতন্ত্রের ও শাসনের পরিবর্তন। যে কাজ সংবিধানের দোহাই দিয়ে হাসিনা করেছেন সেই একই প্যাটার্নের কাজ সরকারের প্রথম মাসেই দেখতে পাচ্ছি। হাসিনা মানুষকে দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাচ্ছে। এ দিকে বিশাল ঋণ আমাদের ঘাড়ে, ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। আপনি যে প্রকল্পই নেন, এটা আমার টাকা। সরকারের টাকা মানে কী? জনগণের করের টাকা। জনগণের দেয়া করের টাকায় তো রিটার্ন আসতে হবে রাষ্ট্রের। এই রিটার্ন আসেনি বলেই তো হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। জুলাই সনদে এমন এক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে যে ব্যবস্থা টেকসই ব্যবস্থা হয়। যেখানে ইনস্টিটিউশন বিল্ড আপ করে। হাসিনা একের পর এক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে চলে গেছেন। যেখানে রাজনীতিকরণ হবে না এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাচ্ছি। প্রথম থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। গত এক মাসে বিএনপি কী এমন একটা কাজ করেছে যেটা স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে আসছে বা রাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে ছেলেগুলো এত রক্ত দিলো, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি এসব কী করছে সেটা জনগণের প্রশ্ন। বিএনপি সরকারে এসে একটি কাজও সংবিধানের মধ্যে করেনি। যখনই জুলাইয়ের কথা আসছে তখনই সংবিধান, অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সংবিধান নাই। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা বাজেট অধিবেশনে পাস না করে কোত্থেকে দেয়া হচ্ছে এর ব্যাখ্যা সালাউদ্দিন সাহেব দিতে পারবেন না। জুলাইকে হেয় করছেন কিভাবে, মানুষের রেফারেন্ডাম বা জনগণের অভিপ্রায় কন্সটিটিউন্সি পাওয়ার, সাংবিধানিক ক্ষমতা। জনগণের ক্ষমতার উৎসকে যখন মেনে নেব, সে ক্ষমতাকে পার্লামেন্ট কেন কোর্টও চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না।