আবদুল হামিদ কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
মাঠজুড়ে ছিল সবুজের সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির ফলন দেখে স্বপ্ন বুনছিলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কৃষকরা। কেউ ব্যাংকঋণ, কেউ ধারদেনা করে আবাদ করেছিলেন। ফসল ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে সেই স্বপ্ন। পুঁজি হারিয়ে এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নেমেছেন তারা।
বন্যার পানি নেমে গেলেও মাঠে রয়ে গেছে ক্ষতির চিহ্ন। কোথাও কাদামাটি, কোথাও পলি ও বালুর স্তর। নষ্ট হয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। ফলে নতুন করে আবাদে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চাপও তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় কমলগঞ্জে প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মখাবিল এলাকার টমেটোচাষি আবদুর রহিম বলেন, ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। বানের পানিতে পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে। এখন ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় আছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক তোফায়েল আহমেদ ও মজিদ খান জানান, তিনজন মিলে ১০ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও চারা রোপণ করেছিলেন। বন্যায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, এলাকা নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন জমিতে সময়মতো ফসল ফলানো যাবে কি না- তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
আমনের বীজতলা হারানো কৃষক আবদুল মন্না বলেন, বানের পানিতে তার পুরো বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ফলে রোপা আমনের আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। কৃষক মরম আলী জানান, ব্যাংকঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলেন। সব নষ্ট হওয়ায় সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ নিয়েও বিপাকে পড়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
পুঁজি ও ফসল হারিয়েও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকেরা। ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে আমন আবাদে মাঠে ফিরছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা হাতে পৌঁছাবে। সেই সহায়তায় আবারো ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন মৌসুমে নতুন স্বপ্ন বুনতে চান তারা।



