রাজপথে মৃত্যুর হানা

বিভিন্ন স্থানে নিহত ৫

হাফেজ ওসমানের আর পাগড়ি পরা হলো না

Printed Edition

রাজৈর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হয়েছিলেন হাফেজ। রাত পোহালেই পাবেন হাফেজি মর্যাদার পাগড়ি। কিন্তু সেই পাগড়ি আর মাথায় নেয়া হলো না ওসমানের (১৯)। বেপরোয়া গতির বাস কেড়ে নিল তার জীবন।

এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বড়ব্রিজের ঢালে রোড ডিভাইডারের পূর্ব পাশে। নিহত ওসমান (১৯) পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানাধীন উত্তরীপাড়া গ্রামের বিল্লাল হাওলাদারের ছেলে। সে টেকেরহাট শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা কমপ্লেক্সের পিছনে মাছের আড়ৎসংলগ্ন বায়তুল নূর ক্যাডেট মাদরাসার ছাত্র।

মাদরাসা শিক্ষক, প্রত্যদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদ্য হাফেজ হয়েছেন ওসমান। গতকাল বৃহস্পতিবার তার মাথায় পাগড়ি পড়ানোর কথা ছিল। এরই মধ্যে বুধবার রাতে মাদরাসা থেকে এক হুজুরের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয় ওসমান ও তার বন্ধু হাসিবুল (১৬)। পরে টেকেরহাট থেকে রাজৈর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তারা। পথিমধ্যে রাজৈর বড়ব্রিজের ঢালে রোড ডিভাইডার স্থানে এলে অপরদিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওসমানের মৃত্যু হয়। একই সাথে গুরুতর আহত হয় হাসিবুল।

আহত হাসিবুল রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার এমদাদুল মোল্লার ছেলে। সে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।

বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার শাজাহানপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএডিসির অবসরপ্রাপ্ত গাড়ীচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ ওরফে খোকা (৬৭) নিহত হয়েছেন। তিনি শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত কুড়ানু প্রামাণিকের ছেলে। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার বীরগ্রাম স্ট্যান্ডের উত্তরে হাজিপাড়া নামক স্থানে বগুড়া-নাটোর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রডবোঝাই ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার বাদ জোহর নিজ বাড়ির পাশেই তার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বাসস জানায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোষেরহাটে বাসের ধাক্কায় রাহেলা আক্তার শান্তা (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন।

বুধবার সদর উপজেলার ঘোষেরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাহেলা আক্তার সদর উপজেলার শাহতলী মুন্সি বাড়ির মো: শামসুল হুদা মুন্সির সেঝো মেয়ে। তিনি শাহতলী জিলানী চিশতি কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাহেলা আক্তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোষেরহাটে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী যাত্রীবাহী আইদি বাসের ধাক্কায় শান্তা সড়কে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার করেন। ঢাকায় নেয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিক্ষার্থী রাহেলা আক্তারের বাবা শামসুল হুদা মুন্সি বলেন, আমার মেয়ে ঘোষেরহাটে গেলে আইদি বাস চাপা দেয়। আমি ঘাতক আইদি বাস চালকের বিচার চাই।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমি ঘটনা শুনে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল ঘোষেরহাট পরিদর্শন করেছি। কলেজ শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাস আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনা তদন্তে থানার এসআই আওলাদ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অন্য দিকে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকায় ট্রাকচাপায় ডেভিট পালমা (৩৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের অবয়ের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি নগরীর কুমোরপুর এলাকার পরিমলের ছেলে ও চার্চের ফাদার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে তিনি মোটরসাইকেলে করে অবয়ের মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় কিছু সময় যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-কালীগঞ্জ সড়কে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় আহত নার্সারি ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৬০) গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত চালক পালিয়ে গেলেও পিকআপ ভ্যান গাড়ীটি পুলিশ আটক করেছেন। ঘটনার ব্যাপারে জীবননগর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

নিহত ফজলুর রহমান জীবননগর উপজেলার বাঁকা আশতলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন নার্সারি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফজলুর রহমান বাইসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে জীবননগর বাজারে যাওয়ার পথে জীবননগর-কালীগঞ্জ সড়কের বাঁকা আশতলাপাড়া এলাকায় জনৈক আলী হোসেনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কালীগঞ্জ দিক থেকে আসা যশোর ন-১১-১২৪৬ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যান দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে তার বাইসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেয়।

এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথা, কোমর ও বাম পায়ে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।