উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক চিঠি দিয়ে দায় এড়াচ্ছে বোর্ড

এসএসসির তালিকাভুক্ত পরীক্ষকদের দায়িত্ব অবহেলা

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

সামাজিক মাধ্যমে গোপনীয় ওএমআর শিটের ছবিও জনসম্মুখে

এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না তালিকাভুক্ত পরীক্ষকরা। কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এসএসসির উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হলে কাক্সিক্ষত ফল পাবে না তারা। ফলে এই উত্তরপত্র যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের কথা অনেক পরীক্ষক সেভাবে কাজটি করছেন না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায় বেশ শিক্ষা বোর্ডে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও এসেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের সবচেয়ে গোপনীয় অংশ ওএমআর শিটের ছবিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে পড়ছে। এটা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আর এসব অভিযোগের বিষয়ে শুধু দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একটি চিঠি ইস্যু করেই দায়িত্ব শেষ করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

সূত্রমতে, গত বেশ কয়েক দিনে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে এসএসসির উত্তরপত্র নিয়ে বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা শিক্ষাবোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, উত্তরপত্রের উপরের অংশ যে অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সেনসিটিভও বটে সেই ওএমআর শিট পূরণের জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কাজে লাগানো হচ্ছে। ফেসবুকে এসব ছবি প্রকাশও পেয়েছে। গত কয়েক দিনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্রের অধীন টাঙ্গাইল, মাদারীপুরসহ আরো কয়েকটি জেলার উত্তরপত্রের ওএমআর শিটের গোল অংশ শিক্ষকদের পরিবর্তে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পূরণ করতে দেখা গেছে। এটা রীতিমতো অন্যায় এবং গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত ভঙ্গ।

এ বিষয়ে গতকাল রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে বৃত্ত ভরাট করানোর ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে শাস্তি পাচ্ছেন এক শিক্ষক। এই অপরাধের জন্য গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর আইকদিয়া আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে। তিনি এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র বিষয়ের পরীক্ষক। অপর দিকে ইংরেজি প্রথম পত্রের (বিষয় কোড ১০৭) এর পরীক্ষক টাঙ্গাইলের সখিপুরের বহুরিয়া চতল বাইদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এবং ফরিদপুরের মধুখালীর ঘোপাঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: মাহাবুব রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকদের দেয়া চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের (বিষয় কোড-১০৮) উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে বৃত্ত ভরাট করার ভিডিও/স্থির চিত্র সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাথমিক তদন্তে তা প্রমাণিত হয়। আপনার এমন কার্যকলাপের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের মনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষক-পরীক্ষক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট/পূরণ করানো বা মূল্যায়ন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো: অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা প্রাথমিক অবস্থায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি এবং এই অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণও পাওয়া গেছে। তাই তাদেরকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো কঠিন শাস্তির আওতায় তাদের নিয়ে আসা হবে।