তারেক রহমান সরকারের ১০০ দিন

৬০ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ৬২ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে : মাহদী আমিন

Printed Edition
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন : পিআইডি
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক শ’ দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নেয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৬২% বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এক শ’ দিনের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই তথ্য দেন। মাহদী আমিন বলেন, সরকার এক দিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্য দিকে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলায়ই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সাথে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন। গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা।

মাহদী আমিন বলেন, প্রথম এক শ’ দিনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে দ্রুত দৃশ্যমান এবং কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন খুব স্বল্প সময়ে তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে। খেটে খাওয়া প্রান্তিক তৃণমূলের মানুষ আরো বেশি স্বাবলম্বী স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন বলে আমি মনে করি। গত তিন মাসে প্রায় শতভাগ শিশুকে হামের টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তারেক রহমানের সরকার বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য অনেকেই সে বাকস্বাধীনতাকে অপব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, কোনো আইন বিএনপি সরকার কখনোই ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়নি। ঐতিহ্যগতভাবে কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলনের মাধ্যমে সেটি সম্পন্ন হয়েছে।

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই এই হত্যার বিচার হওয়া উচিত। এটা আমাদের অগ্রাধিকার। সামনের দিনগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চয়ই আপনারা দেখতে পারবেন।

ঈদযাত্রায় প্রাণহানি প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, যেকোনো মৃত্যুই অত্যন্ত দুঃখজনক। দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমাদের সর্বোচ্চ প্রাধান্যই থাকবে যেন নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে মানুষ যার যার এলাকায় ফেরত যেতে পারেন, পরিবারের সাথে ঈদটা সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন। এবার কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, বগির সংখ্যা নারীদের জন্য আলাদাভাবে বাড়ানো হচ্ছে। উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কিভাবে আমরা বাস এবং ট্রেনের শিডিউলগুলাকে ম্যানেজ করতে পারি।

সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে শ্রমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে দেশব্যাপী শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতনভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ, সাধারণ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো, বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করা, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু করা, বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ, শিশু রামিসার হত্যাকারীর বিচার দ্রুত করার উদ্যোগ,বাংলাদেশী পাসপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা, অর্থনৈতিক খাত, ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের চার হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ, সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে তিনটি দেশের সাথে চুক্তি সই এবং বাকি দেশগুলোর সাথে চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসা, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেয়ার উদ্যোগ, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ, সংসদ কার্যকর করা, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া ইত্যাদি পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সূচনা বক্তব্যে দেশকে সবুজায়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি সরকার বৃক্ষপ্রেমী।

উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো: সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।