নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ

চাপে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

দীর্ঘদিন ধরেই তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীরা তাদের সুবিধামতো সচিবালয়ে এসে তাদের নিয়মিত কাজ করতেন। এই সুযোগে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা স্বাধীনভাবেই অফিসে যাতায়াত করতেন। দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল-সকাল অফিসেও আসছেন তিনি। এতে কিছুটা চাপে পড়েছে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শেরেবাংলা নগরে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে সচিবালয়ে প্রথম অফিস করেন তিনি।

১৯ ফেব্রুয়ারিও সচিবালয়ে দাফতরিক কাজ করেন তিনি। মাঝে শুক্রবার সরকারি ছুটি কাটান। সর্বশেষ শনিবার ছুটির দিনেও তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তারেক রহমান। মূলত প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ছুটির দিন শনিবারেও দাফতরিক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরপর গতকাল রোববার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি অফিসে আসেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যান। সেই সাথে নির্ধারিত সময়ে সবাইকে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। অফিসে এত সকালে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে অনেকে অভিভূত হয়েছেন।’

অতিরিক্ত প্রেসসচিব রুমন বলেন, ‘একজন সাংবাদিক সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসার ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ১৫ মিনিট আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন, সেটা উনি (ওই সাংবাদিক) জানেন না।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘সচিবালয়ে অফিসে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সবাই অফিসে উপস্থিত হন।’

বেলা ১১টায় তথ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা রুমে রুমে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাড়ে ৮টার মধ্যে অফিসে প্রবেশের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী ৯টার আগেই অফিসে প্রবেশ করছেন এমন তথ্যও জানিয়ে দিচ্ছেন।

কর্মকর্তারা জানান, এর আগের রাজনৈতিক সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী বছরে ২-১ বার সচিবালয়ে প্রবেশ করতেন। বাকি সময়গুলোতে তিনি তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরাও ফাঁকিবাজি করার সুযোগ পেতেন। কোনো কোনো মন্ত্রী অফিসে না এসে দেশের পাঁচতারকা হোটেলের বিলাসী জীবন যাপন করতেন। কর্মকর্তারা সেখানে ফাইল পাঠিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতেন। এমন পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময়ের ব্যাপারে কিছুটা সুবিধা ভোগ করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সময়ের কিছুটা আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করায় কিছুটা চাপে পড়তে হচ্ছে তাদের।