নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া মানে দেশের সর্বনাশ হওয়া : মির্জা ফখরুল

Printed Edition
ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত
ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম : নয়া দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে চক্রান্ত চলছে, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার। নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার। এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া, এই দেশের সর্বনাশ হওয়া। এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার। এই সরকারটা এখন তাড়াতাড়ি নির্বাচন করবে। অধ্যাপক ড. ইউনূসকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তিনি আর কোনো কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটাই আমাদের চাওয়া। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড কর্তৃক আয়োজিত, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, আজকে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধারা নাকি একাত্তরে কিছুই করেননি, দেশটার জন্য কোনো অবদান রাখেননি। এখন যারা ’২৪-এ করেছে, তারাই সব করেছে। এই রকম একটা ধারণা দিচ্ছে। ’৭১ এ আমার হাজার হাজার ভাইকে শহীদ করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের মা-বোনদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন করে, শ্লীলতাহানি করে হত্যা করা হয়েছে। এরাই আজকে দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে, গ্রাস করার চেষ্টা করছে। এই কথাগুলো আমরা ভুলতে পারি? দীর্ঘ ৯ মাস যারা যুদ্ধ করেছি পরিবার-পরিজনের কোনো খবর নেইনি। সেই দিনটাকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে, সেটাকে কি ভুলে যাওয়া যায় ভাই? আমার জন্মটাকে কি আমি ভুলতে পারি?

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দিবেন না। হিন্দু মুসলমান ভাগ হতে দিবেন না। আমরা হিন্দু মুসলমান এখানে ভাই ভাই, একসাথে আছি। সারাজীবন একসাথে চলেছি। এটাকে যেন কেউ দু’ভাগ করতে না পারে।

নিজের বয়স হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুড়ো হয়ে গেছি। সব কথা সবসময় বলতে পারি না। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে। এই দেশটা আমাদের, এই মাটি আমাদের, মানুষগুলো আমাদের। এই মানুষগুলোকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সম্মৃদ্ধির পথে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তারেক রহমান। উনিও জেল খেটেছেন একাত্তর সালে। পাক হানাদার বাহিনী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে জেলখানায় রেখেছিল। তার সাথে তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও কোকো রহমানকেও জেলে ছিলেন। তাই এই মুক্তিযুদ্ধটা আমাদের বুকের মধ্যে গেঁথে আছে, এটা বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভেবেছেন। আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ ভাতা পাচ্ছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করেছি, আগামীতেও চেষ্টা করব।

ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক নূর করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহম্মদ খাঁ, সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মনসুর আলী সরকার, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।