উজবেকদের বিপক্ষে জ্বলে উঠবেন কি রোনালদো

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ফেবারিট হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে শুরু করেছিল পর্তুগাল। তবে গ্রুপ ‘কে’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে হতাশার ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশটি। সেই ম্যাচে অনেকটা নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন সিআর সেভেন। সেই হতাশা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে আজ এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের মোকাবেলা করবে পর্তুগিজরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে দুই দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরেছিল উজবেকিস্তানও। ফলে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে জয়ের বিকল্প দেখছে না উভয় দলই।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা পর্তুগাল ম্যাচটিতে বলের দখল ও পাসিংয়ে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও আক্রমণভাগে কার্যকর হতে পারেনি। ৭৫ শতাংশ বলের দখল এবং শত শত সফল পাসের পরও মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারা কোচ রবার্ট মাটিনেজের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্য দিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয়া উজবেকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হার দিয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। কোচ ফ্যাবিও ক্যানভারো মনে করেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচের চাপ কাটিয়ে উঠতে পারলে তার দল আরো ভালো ফুটবল খেলতে সক্ষম। ফলে ‘হোয়াইট উলভস’রা আশা করবে, প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান যেন টানা দুই পরাজয়ে শেষ না হয়। যা তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করে দেবে।

পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মিডফিল্ড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেজ ও বার্নার্দো সিলভাকে নিয়ে গড়া মাঝমাঠ বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। তবে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে। বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। প্রথম ম্যাচে তিনি পূর্ণ সময় খেললেও প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী তারকা তিনটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আল নাসর তারকার গত বিশ্বকাপে শেষ গোলটি এসেছিল প্রথম ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে। এরপর আর বিশ্ব মঞ্চে জালের দেখা পাননি পর্তুগালের এই কিংবদন্তি। যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আরো সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবুও তার অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়ার ক্ষমতায় অন্যতম ভরসা পর্তুগালের।

উজবেকিস্তানের প্রধান ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এলডোর শোমুরোডভ। জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে তিনি যেকোনো প্রতিরক্ষাকে বিপদে ফেলতে পারেন। পাশাপাশি তরুণ ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভের ওপর থাকবে রোনালদোকে সামলানোর কঠিন দায়িত্ব। মিডফিল্ডে আব্বোসবেক ফায়জুল্লায়েভের সৃজনশীলতায় পাল্টা আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উজবেকদের।

ম্যাচটি হতে পারে দখলভিত্তিক ফুটবল বিপক্ষে রক্ষণাত্মক পাল্টা আক্রমণের লড়াই। পর্তুগাল স্বাভাবিকভাবেই বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবে ও প্রতিপক্ষের অর্ধে দীর্ঘ সময় কাটাবে। অন্য দিকে উজবেকিস্তান অপেক্ষা করবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগের জন্য। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের আক্রমণভাগের দুর্বলতা দেখে উজবেকরা হতে পারে আরো আত্মবিশ্বাসী।

ইতিহাসের দিক থেকে এটি প্রথম সাক্ষাৎ দুই দলের। ম্যাচে বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান ও স্কোয়াডের গভীরতায় অনেকটা এগিয়ে থাকবে পর্তুগাল। সব দিক বিবেচনায় এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিনরা। তবে সংগঠিত রক্ষণ এবং কার্যকর পাল্টা আক্রমণ ধরে ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারে উজবেকিস্তান, তাহলে প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠতে পারে পর্তুগালের জন্য।