দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও টিআইবিকে কাজ করতে হবে

ওপেন ডাটা ওরিয়েন্টেশনে ড. ইফতেখার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকর্মীদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রধান সহায়তাকারী শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, পেশাগত কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝুঁঁকি, বাধা কিংবা প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হলেও কোনো অবস্থাতেই হতাশ হয়ে পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। গণমাধ্যম ও টিআইবির মতো সুশীল সমাজ যদি পিছু হটে, তবে দুর্নীতিবাজ ও সুশাসন বিরোধী শক্তিই জয়ী হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য দেশের স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও টিআইবিকে একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ওপেন ডাটা শীর্ষক এক প্রশিণ কর্মশালায় এ কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক। অনুষ্ঠানে ডিজেএফবির সভাপতি আরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রিপন, টিআইবির পরিচালক আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গবেষণামূলক কাজের েেত্র গণমাধ্যম সবসময়ই সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। গণমাধ্যমকর্মীদের দতা, উৎকর্ষতা এবং অনুসন্ধানী মতার বিকাশ ঘটাতে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে নিয়মিত এ ধরনের দতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিণ, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মাঠপর্যায়ে সেমিনার এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, এ বছর ইতিমধ্যে ১০টি অনুসন্ধানী ফেলোশিপ অফার করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পাওয়া প্রস্তাবগুলো থেকে যোগ্যদের নির্বাচন করে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।

ড. ইফতেখার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি নিজস্ব দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, কোনো স্বাধীনতাই সীমাহীন বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও পেশাগত মতার সাথে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাও সরাসরি যুক্ত। তাই গণমাধ্যমকে যেমন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্তভাবে অনুসন্ধানী কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে, তেমনি গণমাধ্যমকেও স্ব-উদ্যোগে নিজেদের পেশাগত নৈতিকতা ও অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, এ প্রশিণকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন বা ণিকের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। কর্মশালা শেষ হলেও টিআইবির সাথে সাংবাদিকদের পেশাগত যোগাযোগ ও মেলবন্ধন অব্যাহত থাকবে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির েেত্র তথ্যের প্রযুক্তিগত সহায়তা, কৌশলগত পরামর্শ কিংবা যেকোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁঁকির সময়ে টিআইবি সাধ্যমতো সাংবাদিকদের পাশে থাকবে। প্রশিণার্থীদের পেশাগত দতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আরো গভীর ও বিশেষায়িত প্রশিণের সুযোগ তৈরি করতে হবে বলে জানান তিনি।