নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টির প্রভাবে টানা চার মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকা সবজির বাজারে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। তবে মুরগি ও গোশতের বাজারে দাম এখনো আগের পর্যায়েই রয়ে গেছে। মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগমনী মৌসুমে নতুন ফসল উঠতে শুরু করায় সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কিছুটা কমেছে। সবচেয়ে কম দামের সবজির মধ্যে রয়েছে পেঁপে, যা প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়স, করলা ও শিম এখনো ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল মগবাজার, মালিবাগ ও উত্তরার কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, শালগম (নতুন) ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কচু ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মগবাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন তোহা বলেন, বিগত কয়েক মাস সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে, তবে কিছু পণ্যের দাম আবার সামান্য বেড়েছে। আগের তুলনায় এখন বাজার অনেকটা সহনীয়। অন্য দিকে মালিবাগের বিক্রেতা সোহেল হোসেন জানান, গত সপ্তাহে অনেক সবজি ৬০ টাকায় বিক্রি করেছি; কিন্তু গত সপ্তাহে বৃষ্টিতে কিছু সবজি নষ্ট হয়েছে, তাই আজ কিছুটা দাম বেড়েছে। শীত বাড়লে দাম আরো কমবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, টমেটো ও শালগমের সরবরাহ বাড়বে। ফলে দাম আরো কমে আসবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
এ দিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনো গোশত ও মুরগির দাম আগের মতোই। গতকাল সকালে উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ টাকা দরে, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, লাল লেয়ার ৩০০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ টাকা, দেশী মুরগি প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, দেশী হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়।



