নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বিজয় নগরের একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের বাস। হেলপার আলম জানালেন, একই স্থানে পৌনে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তারা। একবারের জন্যও চাকা সামনের দিকে ঘোরেনি। শুধু এই গ্লোরী বাসই নয়, অফিস থেকে ঘরমুখো মানুষদের বহন করা শত শত যানবাহন আটকে ছিল বিভিন্ন রাস্তায়। অপর প্রান্ত দিয়ে মহাখালী থেকে মেটারসাইকেলে আসা জুয়েল রানা জানান, বিপরীত রাস্তা দিয়ে আসার সময় তিনি দেখেছেন মতিঝিল থেকে মহাখালী পর্যন্ত গাড়ির লম্বা লাইন। এরপরেও এই লাইন গেছে কি না সেটি বলতে পারবেন না।
গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। কোথাও কোথাও কোমড় পানির নিচে তলিয়ে যায় রাস্তা। এ সময় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে থাকে অসংখ্য সিএনজি অটোরিকশা, ব্যটারিচালিত রিকশা, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন।
অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে ছিল ধীরগতি। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সকালে ভোগান্তি নিয়ে কর্মজীবী মানুষ অফিসে পৌঁছালেও অফিস শেষে ফেরার পথে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেকে আবার যানবাহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটেই ছুটছেন গন্তব্যে।
বিকেল ৪টার পর নামে মুষলধারে বৃষ্টি। এতে অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির গতি প্রায় থেমে যায়। আসাদ গেট, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, মহাখালী, সাতরাস্তা, মগবাজার, রমনা, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন, নয়াপল্টন, আরামবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল প্রতিটি সড়কে আটকে থাকে শত শত গাড়ি। বিশেষ করে বিকেলে বাসায় ফেরার ভোগান্তি ছিল সব থেকে বেশি। সরেজমিন দেখা যায়, নয়াপল্টন বিএনপি অফিসের উল্টো দিকে বিকল হয়ে পড়ে ছিল কয়েকটি সিএনজি ও ব্যটারিচালিত অটোরিকশা। সিএনজি চালক মাহফুজ বলেন, রাস্তায় পানির গভীরতা বুঝতে না পারায় তলিয়ে যায় তার অটোরিকশা। পরে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে তা বিকল হয়ে গেছে। পানি কমলে অপর একটি সিএনজি অটোরিকশা ডেকে তার পর এটাকে টেনে ওয়ার্কশপে নিতে হবে।
অফিস শেষ বিকাল ৫টার পর হাতে ছাতা নিয়ে কাওরান বাজারে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী জেরিন আক্তার। বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন তিনিও। জেরিন বলেন, যতই বৃষ্টি হোক যাদের অফিস আছে, তাদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। সকালে বৃষ্টি হলেও কোনোভাবে অফিসে আসতে পেরেছি। এখন গাড়িই পাচ্ছি না। তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) অনীশ কীর্ত্তনীয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ির গতি কমে গেছে। এতে কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজায় গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এর চাপ পড়েছে নিচেও। এতে করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ সড়কগুলোতেও যানজট দেখা গেছে।



