সাইফুর রহমানের স্বপ্নের সিলেটকে উন্নয়নের শিখরে নিতে চাই : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

Printed Edition
সিলেটে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে পু®পস্তবক অর্পণ করে দোয়া করা হয় : নয়া দিগন্ত
সিলেটে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে পু®পস্তবক অর্পণ করে দোয়া করা হয় : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদতবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির নেতারা।

শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতারা এম. সাইফুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করেন। এ সময় এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান এমপি, সিলেট জেলা বিএনপি নেতারা এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদতবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাকে স্মরণ করছি। তিনি শুধু একজন জাতীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মতো অসংখ্য নেতাকর্মীর অভিভাবক। আমরা তার স্নেহধন্য হয়ে রাজনীতিতে পথ চলেছি।

তিনি বলেন, আমাদের ছাত্ররাজনীতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় এম. সাইফুর রহমানের মতো নেতাদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পথ আমরা অতিক্রম করেছি, সেই সময়ে তিনি ছিলেন আমাদের জন্য একজন অভিভাবকতুল্য নেতা। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এম সাইফুর রহমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা ও উদ্যোগ ছিল। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তার নীতিগত ভূমিকা ছিল। শিক্ষা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তার সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার অর্থনৈতিক চিন্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এম সাইফুর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় যারা দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি তাদের একজন। সিলেটের মানুষ তাকে শুধু একজন রাজনীতিক হিসেবে নয়, নিজেদের একজন আপন মানুষ হিসেবে ভালোবাসতেন। সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা এই অঞ্চলের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ সময় সিলেটের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেশের মানুষ নতুন করে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সিলেটের মানুষও বিপুলভাবে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সিলেটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আমরা যারা রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরো এগিয়ে নেয়া।

তিনি বলেন, এম সাইফুর রহমান যেভাবে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন, সিলেটের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করতেন, আমরা তার স্নেহধন্য হিসেবে সেই পথ অনুসরণ করতে চাই। আমাদের সামর্থ্য হয়তো তার মতো ব্যাপক নয়, কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব সিলেটকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করার।

এম সাইফুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা- তার স্বপ্নের সিলেটকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করি।

এ দিকে এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে শনিবার দোয়া মাহফিলে এম সাইফুর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজিম উদ্দীন লস্কর, কামরুল হাসান শাহিন, আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু, জিল্লুর রহমান সোয়েব, কুহিনুর আহমদ, শাকিল মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, লোকমান আহমদ, সালিক আহমদ, মনিরুল ইসলাম তোরন, সোলেমান আহমদ, শওকত মিয়া, শাহিন আলম জয়, আতাউর রহমান কাচা, সেলিম আহমদ, সাহেদ আহমদ, মিজানুর রহমান বেলাল, মোস্তাক আহমদ মোস্তাক, মাহবুব আলম, জাহেদুর রহমান, মুক্তার আহমদ, জুনেদ আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।