নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নতুন বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ, মানবিক, উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তরুণ যুবসমাজকে নিয়ে কাজ করার সময়-সুযোগ রাষ্ট্রের নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেই ব্যস্ত।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যুব র্যালির আগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের যুবসমাজ অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। তাই যুবসমাজকে দাবিয়ে রাখা যায় না। সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ তরুণরা বিপ্লব রচনা করতে জানে। অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে তরুণরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে বিপ্লব অর্জন করেছে, তারই ফসল নতুন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, আকাক্সক্ষা ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা মøান করে দিচ্ছে। তরুণদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় অনেকে বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসছেন না। তারা বিদেশে গিয়ে বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে স্থান করে নিচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীকে দায়িত্ব দেয়া হলে তরুণদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। দলীয়করণ ও কোটার মাধ্যমে নিয়োগের পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও চব্বিশের বিপ্লবে তরুণ যুবসমাজের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। তরুণদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের নতুন বাংলাদেশ। আগামী প্রজন্মকে দেশের নেতৃত্বের জন্য গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ যেভাবে কাজ করছে, রাষ্ট্রকেও সেভাবে কাজ করা দরকার।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, তরুণ যুবসমাজের উন্নয়ন ও তাদের সমৃদ্ধ করতে জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। নৈতিকতার সমন্বয়ে তরুণদের গড়ে তুলে নতুন পথ দেখানোর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণই তাদের লক্ষ্য।
যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। এ সময় মহানগরীর বিভিন্ন সাংগঠনিক থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে যুব র্যালিটি বের হয়। র্যালিটি হাইকোর্ট চত্বর ও মৎস্য ভবন এলাকা প্রদক্ষিণ করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।


