বাকৃবির সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত প্রশাসনের

বহিষ্কারের বিপক্ষে ছাত্রদল

Printed Edition

বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সম্প্রতি চারটি আবাসিক হলে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাকৃবি শাখা। অন্য দিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে। ঘটনার বিচার চেয়েছেন সংঘর্ষে আহত হওয়া শিক্ষার্থীরাও। জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যক্তিগত বিরোধ ও আঞ্চলিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর, একা পেয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চকলেট বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে চার হলের মোট আহতের সংখ্যা ১৭ জন। এই সংঘর্ষের কারণে হলের গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা, সিসি ক্যামেরা, মূল ফটক, দরজা-জানালা, ল্যাম্প লাইট ভাঙচুরসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত পৃথক দু’টি আদেশে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের মধ্যকার সংঘর্ষের শাস্তির সুপারিশ করবে, অন্যটি মাওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের মধ্যকার সংঘর্ষের রিপোর্ট প্রদান করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এর পরও তাদের ছাত্রত্ব বহাল থাকবে কি না, সেটিও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে।

অন্য দিকে প্রশাসনের সম্ভাব্য কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বাকৃবি শাখা। মঙ্গলবার সংগঠনের আহ্বায়ক মো: আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব মো: শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাডেমিক বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সমীচীন হবে না, যা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করেন।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে হলভিত্তিক মারামারির ঘটনাকে প্রশাসনের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এখানে নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা মাত্রই তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে, এটি গভীর চিন্তার উদ্রেক প্রকাশ করে। এবিষয়ে কোনো ছাড় পেলে ভবিষ্যতে আরো বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে। জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। অন্য দিকে সংঘর্ষে আহত হওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারাও শাস্তির দাবি করেছেন।