ক্রীড়া প্রতিবেদক
দরজায় কড়া নাড়ছে এশিয়ান গেমস। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ২০তম এশিয়ান গেমস। যদিও ফুটবল মাঠে গড়াবে ১৪ তারিখে। এ ছাড়া হকি ১৫ তারিখে, জিমন্যাস্টিক্স ও শ্যুটিং, ১৬ সেপ্টেম্বর, সাঁতার, টেবিল টেনিস, উশু, সাইক্লিং ১৭ তারিখে এবং বক্সিং কাবাডি, ফেন্সিং ১৮ তারিখে শুরু হবে। এই গেমসে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক কমিটির অগ্রবর্তী কর্মকর্তাদের একটি দল আজ রাত জাপান যাচ্ছে। এরপর জাপান যাবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ২৬০ জনের বাংলাদেশ বহরের অন্যরা যাবে পর্যায় ক্রমে। এই গেমসের ২২ ডিসিপ্লিনে প্রতিনিধিত্ব থাকছে লাল-সবুজদের। তবে পদক জয়ের জোর সম্ভাবনা ক্রিকেটের পুরুষ ও নারী বিভাগে এবং পুরুষ কাবাডিতে। এ ছাড়া অ্যারচারি, উশু, কারাতে-তে পদকের সম্ভাবনা আছে বলে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করলেন গেমসে বাংলাদেশ দলের শেভ দ্য মিশন ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশসের সহসভাপতি মেজর (অব:) ইমরোজ আহমেদ। গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লাল-সবুজ পাতাকা বহন করবেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতে দলের খেলোয়াড় হুমায়রা আক্তার অন্তরা।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ ১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে। তবে প্রথম পদক আসে ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়াডে। সেবার বক্সিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন মোশাররফ হোসেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই গেমসে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর সুযোগ হয়েছিল পুরুষ কাবাডি দলের কল্যাণে। তারা দেশের পদকের ভাণ্ডারে জমা করেছেন রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। তবে গেমসে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ জয় পুরুষ ক্রিকেট। তা ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে। সেই আসরে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও রৌপ্য জিতেছিল। সেবার নারী কাবাডি দলও দেশকে উপহার দিয়েছিল ব্রোঞ্জ পদক। কাবাডির দুই বিভাগই গত গেমসে পদক জিততে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৩ সালে চীনের হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অর্জন ছিল দুই ব্রোঞ্জ পদক। দুই পদকই এসেছিল নারী ও পুরুষ ক্রিকেটে।
এবারো বাংলাদেশ পদক জয়ের জোর স্বপ্ন দেখছে ক্রিকেটর দুই বিভাগেই। পুরুষ দলের কোচ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করায় সবসময়ই একটা আগ্রহ থাকে। আমি মনে করি, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবাই আশা করে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভালো করবে। আমরা সাধারণত খুব বেশি পদকও পাই না। কিন্তু যেহেতু ক্রিকেট, আমি মনে করি সবাই, পুরো দেশই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে আমরা যেন ভালো করি এবং আমি আশাবাদী যে আমরা ভালো করব। আর যেহেতু খেলতে যাচ্ছি, এখানে আসলে চ্যাম্পিয়ন (স্বর্ণ জয়) হওয়ার চিন্তা করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’
যেহেতু এশিয়াডে পদক আছে পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলের দখলে। তাই এবারো এই দুই দল ভালো করবে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করব ছেলে এবং মেয়েরা ভালো করবে এবং আমরা ভালো ফলাফল নিয়ে আসব।’
ক্রিকেট ততটা খেলে না জাপানিরা। তাই জাপানের কন্ডিশন নিয়ে অবশ্য এখনই খুব বেশি ধারণা নেই বাংলাদেশের কোচের। তবে বাংলাদেশ নারী দল আগে সেখানে খেলায় তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগাতে চান তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু মেয়েরা আগে খেলবে, তাদের কাছ থেকে হয়তো অনেক তথ্য পাবো যে আসলে উইকেটটা কেমন হবে, মাঠটা কেমন হবে।’
অবশ্য জাপানের ক্রিকেট পিচ কিউরেটর বাংলাদেশের পরিচিত। শ্রীলঙ্কার গামিনি ডি সিলভা মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দীর্ঘ দিন প্রধান কিউরেটর হিসেবে চাকরি করেছেন। এতে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে তা কিন্তু স্বীকার করলেন না কোচ সালাহউদ্দিন। তার মতে, ‘না, এভাবে তো আসলে বলা যাবে না। কারণ একেকটা দেশের আবহাওয়া একেক রকম। সেখানকার আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে আসলে উইকেটটা কেমন হবে।’ তবে এটা তো জানি পিচটি কে বানিয়েছেন।
গত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ বলতে গেলে তৃতীয় সারির দল পাঠিয়েছিল পুরুষ ক্রিকেটে। সাইফ হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বী, আফিফ হোসেন ধ্রুব ছাড়া পরিচিত মুখ তেমন ছিলেন না। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারতে হারতে রক্ষা। তা আফিফের স্পিন বোলিংয়ে কারনে। আর ব্রোঞ্জ জয়ের ম্যাচে ইয়াসির আলী রাব্বীর ঝড়ো ইনিংসের পর রাকিব হোসেনের চার রানে পদক নিশ্চিত হয়। এবার অবশ্য বাংলাদেশ দল পূর্ণ শক্তি নিয়েই যাচ্ছে। লিটন দাস অধিনায়ক এই টি-২০ আসরের। ফলে বাংলাদেশ গেমসের হারানো স্বর্ণপদক পুনরুদ্ধারের আশা করতেই পারে। যদিও অন্য দল গুলোও শক্তিশালী টিম পাঠাচ্ছে।
এ দিকে অ্যারচারির সেক্রেটারি তানভীর জোর দিয়েই বললেন তারা এবার একটি নয় একাধিক পদকই জিততে পারে।
সাঁতারের সেরা সময়ে আছেন সামিউল ইসলাম রাফি। থাইল্যান্ডে ক’দিন আগেই দু’টি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। কিন্তু তাকে পাঠানো হয়নি। তাকে নাকি পাঠানোর সুযোগ ছিল না। হকিতে যদি রাসেল মাহমুদ জিমিকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে কেন রাফিকে এশিয়ান গেসসে পাঠানো হলো না। সাঁতার ফেডারেশনের সেক্রেটারি আমিনুল হক দেওয়ান সজলের উত্তর- এটি আগের কমিটির সিদ্ধান্ত।
আসলে বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জাপানে যাওয়ার জন্য যতটা সিরিয়ার হয়ে আগের কমিটির কর্মকর্তাদের নাম বদল করে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন তা ক্রীড়াবিদদের জন্য করেননি। এ ছাড়া বিভিন্ন ফেডারেশনে কোচ না পাঠিয়ে কর্মকর্তারাই কোচ পরিচয়ে যাচ্ছেন। তবে আগামীকে এমনটা হবে না বলে আশ্বাস মেজর (অব:) ইমরোজের।
২৬০ জনের বাংলাদেশ দলে ৯০ জন পুরুষ ক্রীড়াবিদ, ৯৭ জন নারী ক্রীড়াবিদ এবং ৬১ জন পুরুষ কর্মকর্তা ও মাত্র ১২ জন নারী কর্মকর্তা আছে।



