নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে গতকাল পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় বান্দরবান ও কক্সবাজারে মোট সাতজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানে পৃথক দুই পাহাড় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে আরেক পাহাড় ধসের ঘটনায় দুইজন মারা গেছে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।
বান্দরবানে নিহত ৫
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দু’টি পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। গতকাল ভোরে উপজেলার আজিজ নগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আজিজ নগরের বাসিন্দা মো: ইউনুস (৪০), স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং ৫ বছরের ছেলে মো: সোলেমান। অপর ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো: জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসের ঘটনায় স্থানীয়রা চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান। পরে পৃথক দু’টি স্থানে মাটিচাপা পড়া পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও তারা সবাই মারা গেছেন।
এ দিকে টানা বৃষ্টিতে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেই নির্দেশনা মানছেন না।
কক্সবাজারে ২ শিশুর মৃত্যু
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের গত পাঁচ দিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শত-শত গ্রাম তলিয়ে গেছে। এ সময় পাহাড় ধসে মাাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছে বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মোহনিয়া কাটা পাহাড় এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩)। সে এলাকার সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তো। এ ছাড়া একই এলাকার কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৪) মাটিচাপায় মারা গেছে বলে জানা গেছে ।
গতকাল সকালে স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে তাদের বসতঘরের উপর। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এ দুই শিশু মাটির নীচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মাটি সরিয়ে নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করে এবং ততক্ষণে তারা দু’জনই মারা যায়। এ ঘটনায় একই এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয় এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মাইকিংসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছে ।
এ দিকে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানি বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চকরিয়া উপজেলার, কাকারা , মানিক, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী, কৈয়ারবিল, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ও মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, বদরখালী, সাহারবিল, ভেওলা মানিক চর, খুনাখুলী, ডুলাহাজারা ও বমু বিলছড়ি এবং পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, টৈটং, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।



