তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সরকার প্রতিবন্ধী, বিধবা, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য ভাতা চালু করেছে তাদের আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্যে; কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ এই ভাতা তুলতে গিয়ে ভোগ করছেন চরম দুর্ভোগ। নৌকা, মোটরসাইকেল কিংবা হেঁটে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের ছুটতে হয় উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকে। ভাতার টাকা হাতে পেলেও এর পেছনে খরচ ও কষ্ট যেন তার তুলনায় অনেক বেশি।
তাহিরপুর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার ভাতাভোগী রয়েছেন। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা এবং হিজড়াভাতা মাসে ৬৫০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা করে বছরে দুই কিস্তিতে দেয়া হয়। ভাতার এ টাকা তুলতে গিয়েই প্রতিবার নৌকাভাড়া, গাড়িভাড়া, খাবার খরচসহ দিনভর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে।
রতনপুর গ্রামের ৭৬ বছরের হাসিনা বেগম বলেন, ‘পা চলে না রে বাবা। তারপরও নৌকা করে ভাতার টাকা তুলতে আসতে হয়। এক দিন কষ্ট করে আসা-যাওয়া করতে হয়, টাকা হাতে পেলেও অর্ধেক খরচ হয়ে যায়। যদি ব্যাংকের প্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদে আসত বা বিকাশ-নগদে দিত, তাহলে হাজারো মানুষ বাঁচত এই ভোগান্তি থেকে।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ৮০ বছরের সূর্বণ রানী সেন ও ঝর্ণা রানী পাল।
সীমান্ত এলাকা বাগলী গ্রামের আমীর আলী (৮০) ও আব্দুল কাদির (৭৮) জানান, সরকারের দেয়া টাকা তুলতে গিয়ে যে ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের, তাতে এই সহায়তার মূল উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হয়ে যাচ্ছে।
তাহিরপুরের লাকমা গ্রামের শক্কুর বানু (৮০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার ঘরবাড়ি নাই, অন্যের বাড়িতে থাকি। হাত-পা চলে না। ভাতার টাকা উপকার হলেও তুলতে গিয়ে খরচ আর কষ্টের শেষ নাই।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সমস্যাটি স্বীকার করেছেন। শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদ বলেন, ‘বর্ষায় এসব এলাকা চার দিকে পানিতে ভরে যায়। নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। শুকনো মৌসুমে হেঁটে বা মোটরসাইকেল দিয়ে আসতে হয়। ভাতাভোগীদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।’
সোনালী ব্যাংকের তাহিরপুর শাখা ম্যানেজার অর্পণ জেত্রা জানান, হাজার হাজার মানুষ একসাথে টাকা তুলতে এলে চাপ সামাল দিতে দেরি হয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা হচ্ছে, যাতে মানুষ যেকোনো জায়গা থেকে সহজেই টাকা তুলতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘ভাতাভোগীদের কষ্ট আমরা জানি। তাদের সুবিধার্থে বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ চলছে। এতে ভাতাভোগীদের আর উপজেলা সদরে আসতে হবে না।’



