বিশেষ সংবাদদাতা
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হবে উপজেলাভিত্তিক। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সাথে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। এ ছাড়া তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনলাইনে কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সোমবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে এটুকু বলা যায় উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসাথে হলে এবং বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে বিশৃঙ্খলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে একই সাথে এক উপজেলার সবটিতে নির্বাচন হবে বলেও জানান তিনি। তফসিল ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের এখতিয়ার বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, আমার জানা মতে, পোস্টার থাকবে না। বাকি পরিবর্তনগুলো পরে জানানো হবে। সম্প্রতি সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।
সাংবাদিকদের কার্ড অনলাইনে : এ দিকে জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনলাইনে কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসিসহ (আরএফডি) অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাচন ভবনে সোমবার অংশীজনদের সাথে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে ইসি সচিব আখতার আহমদের সভাপতিত্বে অংশীজনের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন, বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ইসির অতিরিক্ত সচিব মো: সামসুল আলম, আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সচিব বলেন, আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। যার ভিত্তিতে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর। কিন্তু অনেক অপেশাদার ও দলীয় নেতাকর্মী সাংবাদিক কার্ড নিতেন অতীতে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, এজন্য একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া আনা দরকার। নির্বাচন কমিশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, এতে পেশাদার সাংবাদিকরা যেন কার্ড পান, আমরা সে অনুরোধ জানিয়েছি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো ট্রায়াল ছাড়াই অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। সে সময় একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করা হয় অনেকটা তড়িঘড়ি করে। তবে সেই সাইটে আবেদনের পর ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গণমাধ্যমের আপত্তি ও দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে সে প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে নির্বাচন কমিশন। এবার আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করে একটি কার্যকর উপায় ও সফটওয়্যার প্রস্তুতের দিকে যাচ্ছে সংস্থাটি।



