ফ্রান্স প্রতিনিধি
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকপাচার, অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য, মানবপাচার এবং সঙ্ঘবদ্ধ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। গত বৃহস্পতিবার মার্টিনিকে অনুষ্ঠিত প্রথম আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানান, ফ্রান্স, ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলো এবং দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি রাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই গড়ে তুলতে হলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়; বরং সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগই একমাত্র কার্যকর পথ।
ফ্রান্স ইনফোর তথথ্যমতে, মার্টিনিকে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ৪০টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং মাদকপাচারসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। জ্যাঁ-নোয়েল বারো বলেন, এই অপরাধচক্রগুলো কেবল মাদক পাচারেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য, মানবপাচার এবং অর্থপাচারের মতো নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যাতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সীমান্ত নজরদারি এবং যৌথ অভিযান আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত নভেম্বরে কলম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার সময় ১২টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আরো ২৩টি চুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। তার মতে, এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে অপরাধ তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো জানান, অংশীদার দেশগুলোতে ফ্রান্স তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করেছে। ফরাসি দূতাবাসগুলোতে কর্মরত পুলিশ, কাস্টমস কর্মকর্তা এবং সামরিক সংযোগ কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এসব কর্মকর্তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যৌথ অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।



