এএফপি
২০১৭ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের কাজ। গত শুক্রবার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানতে পেরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। মূলত ২০১৭ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘ এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে প্রায় ৪৭ হাজার ৩৯০টি আবাসন ইউনিটের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া ও এর অনুমোদন দেয়া বা টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। এ সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর এ ধরনের আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ১৭০টির মতো।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি নিয়মিত উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা হুমকির মুখে ফেলছে।’
২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পশ্চিমতীরে প্রতি বছর গড়ে ১২ হাজার ৮১৫টি ইসরাইলি আবাসন ইউনিট যুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় বসতির সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল ও পরে অঞ্চলটিকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। জেরুজালেমকে বাদ দিলে পশ্চিমতীরে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর বসবাস। সেই সাথে সেখানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনিও রয়েছেন।
গুতেরেস বলেন, এ ধরনের তৎপরতা অবৈধ ইসরাইলি দখলদারিকে আরো দৃঢ়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেদের নেয়ার অধিকার ক্ষুণœ করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরাইলে হামলা চালায়। এর জবাবে সে দিন থেকেই গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। তখন থেকে পশ্চিমতীরেও সহিংসতা ছড়িয়েছে দেশটি।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির করা হিসাব অনুযায়ী, ওই সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে পশ্চিমতীরে ইসরাইলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র যোদ্ধারা যেমন আছেন, তেমন বেসামরিক মানুষও আছেন। একই সময় পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের হামলা বা ইসরাইলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৪ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের সরকারি হিসাব অনুসারে এমন তথ্য জানা গেছে।



