আরপিওর গেজেট প্রকাশ

রিটার্নিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ষ বিশেষ সংবাদদাতা

Printed Edition

ডাকযোগের ব্যালট গণনা ও বাতিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গত সোমবার আরপিওর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে বিজি প্রেস। অধ্যাদেশটি রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরিত। এ অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে আরপিওর অনুচ্ছেদের ২৭ এর ধারা ১০ প্রতিস্থাপন করে ডাকযোগে প্রেরিত ব্যালট বাতিলের (বীপষঁফবফ ভৎড়স ঃযব পড়ঁহঃ) জন্য সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি যুক্ত করেছে। একইসাথে অনুচ্ছেদ ৩৭-এর পর নতুন অনুচ্ছেদ ৩৭ (এ) সংযোজিত করে ডাকযোগে প্রেরিত ব্যালট গণনার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে ডাকযোগে ব্যালট বাতিল হবে (অনুচ্ছেদ ৩৭ নতুন ধারা (১০) : কোনো প্রতীকের বিপরীতে টিক বা ক্রস চিহ্ন না দেয়া হলে। একের অধিক প্রতীকের বিপরীতে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেয়া হলে। টিক বা ক্রস চিহ্ন এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে, কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা না গেলে।

অনুচ্ছেদ ৩৭এ-এর অধীনে গণনার পূর্বে রিটার্নিং কর্মকর্তার দ্বারা ডাকযোগে ব্যালট গৃহীত না হলে। কোনো আদালত কর্তৃক সংশ্লিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর তালিকায় কোনো পরিবর্তন করা হলে। ভোটারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না দেয়া হলে।

ডাকযোগে ব্যালট গণনা প্রক্রিয়া (নতুন অনুচ্ছেদ ৩৭এ) : রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়কে কেবল ডাকযোগে ব্যালট গণনার জন্য একটি ভোটকেন্দ্র (চড়ষষরহম ঝঃধঃরড়হ) হিসেবে গণ্য করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ডাকযোগে ব্যালট গণনার জন্য একজন প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোলিং অফিসার নিয়োগ করবেন। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী/পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ডাকযোগে ব্যালটের খাম খুলে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে ভোট গণনা করবেন। গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারিত ফরমে একটি প্রমাণীকৃত বিবৃতি তৈরি করে দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেবেন। রিটার্নিং অফিসার অনুচ্ছেদ ৩৭-এর বিধান অনুসারে নির্বাচনী এলাকার সমন্বিত ফলাফলে (পড়হংড়ষরফধঃবফ ৎবংঁষঃ) এই গণনা অন্তর্ভুক্ত করবেন।

ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে সংশোধন (অনুচ্ছেদ ৩৯) : আরপিওর অনুচ্ছেদ ৩৯ এর ধারা (১) ও (২) প্রতিস্থাপিত হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী : বিজয়ীর ঘোষণা (ধারা-১) : অনুচ্ছেদ ৩৭-এর অধীনে গণনা ফলাফল পাওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটপ্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন।

বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু ধারা (২) : গণবিজ্ঞপ্তিতে অনুচ্ছেদ ৩৭-এর অধীনে সমন্বয়ের ফলে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম এবং প্রাপ্ত ভোটের মোট সংখ্যা উল্লেখ থাকতে হবে।

স্ট্রাইকিং ফোর্স ও অন্যান্য সহায়তা : পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নির্বাচন ডিউটিতে নিয়োজিত যেকোনো ফোর্সের কমান্ডার বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা প্রদান করবেন।

ব্যর্থতার শাস্তি : যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এই সহায়তা প্রদানে ব্যর্থ হলে, অস্বীকার করলে বা অবহেলা করলে তাকে অদক্ষতা বা অসদাচরণের দায়ে দোষী বলে গণ্য করা হতে পারে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সহায়তা : রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারও দায়িত্ব পালনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করবেন।

নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার কমিটিতে নতুন ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৯১অ এবং ৯১অঅ) :

আরপিওর অনুচ্ছেদ ৯১অ-এ ইলেকট্ররাল এনকয়ারি শব্দগুলোর পর ‘ধহফ অফলঁফরপধঃরড়হ’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ৯১অ-এর পর নতুন অনুচ্ছেদ ৯১অঅ সংযোজিত হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষমতা (নতুন অনুচ্ছেদ ৯১অঅ-এর ধারা-১) : সংশোধিত ঊষবপঃড়ৎধষ ঊহয়ঁরৎু ধহফ অফলঁফরপধঃরড়হ ঈড়সসরঃঃবব (নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার কমিটি) আরপিও-এর অনুচ্ছেদ ৭৩, ৭৫, ৭৭ এবং অনুচ্চেদ ৯১ই-এর ধারা (৩)-এর অধীনে সংঘটিত অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্ত বিচার করার এখতিয়ার পাবে। এই কমিটি ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈড়ফব ড়ভ ঈৎরসরহধষ চৎড়পবফঁৎব, ১৮৯৮) বিধান অনুসারে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

অন্যান্য অপরাধ আমলে নেয়া (ধারা (২) : কমিটি অৎঃরপষব ৮৯অ-এ উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত আরপিওর অন্যান্য অপরাধ আমলে (পড়মহরুধহপব) নিতে পারবে। তবে আমলে নেয়ার পর আইন অনুসারে বিচারের জন্য উপযুক্ত আদালতের কাছে মামলাটি ফরওয়ার্ড করবে।

সহায়তা ও শাস্তির বিধান (ধারা (৩) ও (৪) : তদন্তে সহায়তার জন্য অনুচ্ছেদ ৮৯অ-এর অনুরূপ বিধান এই কমিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, পুলিশ সুপার/পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে এবং ব্যর্থ হলে তা অদক্ষতা বা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারও কমিটিকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবেন।কিছু অনুচ্ছেদের পরিবর্তন