ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ছয় বছর আগে ছাত্রলীগের নির্যাতনে প্রাণ হারানো বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সিঁড়িগুলো নির্মিত হয়েছে।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে মত প্রকাশ থেকে মৃত্যু : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ” শিরোনাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আমাদের সিঁড়ি নির্মাণ করেছি শাপলা চত্তরের শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং আবরার ফাহাদের মতো শহীদদের আত্মত্যাগকে বর্তমানে গঠনকৃত রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ শোষণ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯০৫-এর ভঙ্গভঙ্গ, ১৯১১-এর বাধা এবং পরে লাহোর প্রস্তাব সব মিলিয়েই ভাগাভাগি ও শোষণের ধারাকে প্রভাবিত করেছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজনীতির ধারায় বিদেশী আধিপত্যবাদের নানামুখী ইতিহাস দেখা যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবনতিও নিজেদের মধ্যে বিশ্লেষণ করা দরকার।
সালাউদ্দিন বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে পার্শ্ববর্তী যেসব বড় শক্তি আছে তাদের একটি পরিকল্পনা থাকে, দুর্বল প্রতিবেশী দেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তারের কৌশল নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিদেশী প্রভাবশালী শক্তির পক্ষে অনুকূল শাসকগোষ্ঠী সৃষ্টির মাধ্যমে এ ধারা কার্যকর করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং এতে তারা আংশিক সফলও হয়েছে।
বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, শুধু মাঠে স্লোগান তুলে বা রাজনীতি করে ‘ব্যাড পলিটিক্স’ ধ্বংস করা যাবে না বরং শিকড় থেকে বদল আনতে হবে; রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করে ‘ভালো রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠাই একমাত্র কার্যকর উপায়। ফ্যাসিবাদের শেকড় তুলতে হলে জনগণের সামনে ভালো রাজনীতির উপস্থাপন করতে হবে।
আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ২০১৯ সালে গভীর রাতে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এবং তখনকার প্রতিবাদ সত্ত্বেও সহায়ক ব্যবস্থা নিতে পারা যায়নি। আবরারের মৃত্যুর পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল ও প্রতিবাদ হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজো ছাত্ররূপে তাদের রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে এবং সোস্যাল মিডিয়ার প্রচারণার বিরুদ্ধে তারা সরাসরি গণ-আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।
এ ছাড়া বক্তারা আবরার ফাহাদের স্মরণে আন্দোলন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।



