ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দল এবং নারী ফুটবল দলে বসন্তের হাওয়া বইছিল। নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল। পুরুষ জাতীয় দল অল্পের জন্য তা মিস করেছে। তবে সর্বশেষ ফিফা প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের ২-১ গোলে জয় ছিল ইউরোপিয়ান দেশ সানমেরিনোর বিপক্ষে। জাতীয় দলের সেই ধারা এখন ক্লাব ফুটবলেও। অবশ্য এশিয়ান কনফেডারেশন আয়োজিত এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে খেলাটা বাংলাদেশী ক্লাবগুলোর জন্য নতুন কিছু নয়। গত বছরও বসুন্ধরা কিংস সিরিয়ার আল কারামাহকে হারিয়ে এই আসরের গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এবার সেই ধারা অব্যহত রাখলো ফর্টিস এফসি। নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই তাদের স্মরণীয় জয়। দেশের মাঠে মধ্য এশিয়ান কোনো ক্লাবের বিপক্ষে এবং বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে এই প্রথম কোনো কিরগিজস্তানের ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেল ফর্টিস এফসি। পরশু রাতে অপর ম্যাচে অবশ্য জিততে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। তারা জর্দানের মাঠে ০-১ গোলে হেরেছে সিরিয়ার আল ইত্তেহাদ আহলির কাছে। সিরিয়ান এই ক্লাবের কাছে ০-১ গোলে হারাটাও কিন্তু গর্বের।
ফর্টিস এবং পুলিশ দুই দলই বাংলাদেশের সেরা ক্লাব নয়। ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো ট্রফিই তাদের নেই। ফর্টিস গত লিগের তৃতীয় হওয়া দল। আর পুলিশ পেয়েছে চতুর্থ স্থান। আবাহনীর মতো দেশের অন্যতম সেরা দল গত বছর নিজ মাঠে পাত্তাই পায়নি কিরগিজস্তানের মুরাসের কাছে। সেখানে এবার ফর্টিসের মতো দল সেই মুরাসকে আমলেই নেয়নি। কিংস এরিনার মাঠে তারা যে ম্যাচ খেলেছিল তাদের তিন-চার গোলে জেতা উচিত ছিল। অন্য দিকে ফর্টিসের গরমের মধ্যে খেলার কৌশলের কাছে হার মেনেছে গত এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের সেমিতে বিদায় নেয়া মুরাস। সাথে পেনাল্টি মিসও তাদের বিদায় নিতে বাধ্য করেছে।
এবারই তারা প্রথম খেলল এএফসির আসরে অংশ নেয়া বাংলাদেশের এই দুই ক্লাবের। সেখানে ফর্টিসের এই সাফল্য জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এবং মোহামেডানের মতো আন্তর্জাতিক আসরে জিততে পারে ফর্টিসও। তাদের সাথে পুলিশও যদি জিততে পারত সিরিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে তাহলে ষোল আনাই পূর্ণ হতো। আসলে এএফসির আসরে বাংলাদেশের ক্লাবগুলো এক সাথে সাফল্য পায় না। এক দল জিতে তো অপর দল ছিটকে যায়। গত বছর বসুন্ধরা কিংস জিতলেও আবাহনী পারেনি। আগেও তাই হয়েছে। আবাহনী এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেললেও সাইফ স্পোর্টিং ব্যর্থ।
যাই হোক পুলিশ ব্যর্থ হলেও ফর্টিসের এই জয় দেশের ফুটবলের সবক্ষেত্রেই যে অর্জনগুলো যোগ হচ্ছে তাতে আরেকটি পালক যোগ করেছে। এখন তাদের অপেক্ষা চ্যালেঞ্জ লিগের ২৫ আগস্ট গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের দিকে। সেখানে জানা যাবে তারা ১৭-২৩ অক্টোবর গ্রুপ পর্বে কোন কোন দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে। গত বছর বসুন্ধরা কিংস অবশ্য গ্রুপ পর্বে হতাশ করেছিল। এখন ফর্টিসের পালা স্বদেশী অপর ক্লাবের ব্যর্থতাকে ডিঙ্গিয়ে এবার গ্রুপ পর্বে ভালো করা।
গত পরশু চ্যালেঞ্জ লিগের পশ্চিম জোনের অপর খেলাগুলোতে সিরিয়ার হোমস আল ফিদা ১-১-এ খেলা শেষে টাইব্রেকারে ৮-৭ গোলে হারিয়েছে কিরগিজস্তানের অপর ক্লাব দরদই বিশকেককে। ভুটানের পারো এফসি ২-০ গোলে জয় পেয়েছে আফগানিস্তানের আবু মুসলিমের বিপক্ষে। আর তাজিকিস্তানের রেগার টাডাজ ৩-০তে পরাজিত করেছে মালদ্বীপেরর মাজিয়াকে।


