সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন পাস

বিদ্রোহের বিচার হবে বিশেষ এপিবিএন আদালতে

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের বিদ্রোহ, বিদ্রোহে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ গুরুতর অপরাধের বিচারে বিশেষ ও সংপ্তি আদালত গঠনের বিধান রেখে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। একই সাথে এপিবিএন সদস্যদের তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের মতা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিলের ২২ ধারায় বিশেষ ও সংপ্তিÑ দুই ধরনের এপিবিএন আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ আদালতের সভাপতি হবেন এপিবিএনের অন্যূন ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। সদস্য থাকবেন পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ব্যক্তি এসপি বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার হলে আদালতের সদস্যদের তার চেয়ে উচ্চ পদমর্যাদার হতে হবে।

সংপ্তি আদালতের সভাপতি হবেন অন্যূন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। সদস্য থাকবেন এসপি বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা। এ েেত্রও অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসপি বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার হলে আদালতের সদস্যদের তার চেয়ে উচ্চ পদমর্যাদার হতে হবে।

বিলের ২৩ ধারায় বিদ্রোহ সংঘটন, বিদ্রোহে প্ররোচনা, বিদ্রোহের কারণ সৃষ্টি, বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া এবং বিদ্রোহে যোগ দেয়াকে বিশেষ আদালতে বিচার্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্রোহের স্থানে উপস্থিত থেকেও তা দমনে যথাসাধ্য চেষ্টা না করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সরকারের পে মামলা পরিচালনার জন্য এপিবিএনের অন্যূন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেেিত তার পে আইনানুগ প্রতিনিধি হিসেবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে এপিবিএন পুলিশের অধীনেই পরিচালিত হবে। এর আওতায় স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নসহ সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন থাকতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাইবার সেল গঠনেরও সুযোগ থাকছে।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তা দেয়া, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এপিবিএনের দায়িত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুম, ভূমি দখল, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও থাকবে বাহিনীটির।

এপিবিএন সদস্যদের তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের মতা দেয়া হয়েছে। তবে এসব েেত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। অন্যূন উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা তদন্তকারীর মতা ও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। গ্রেফতার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও পদোন্নতি স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটি পরীা করে সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করে। কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সংসদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। নতুন আইন কার্যকর হলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ বাতিল হবে।