নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি এবং নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সেগুলো পরিকল্পিত ছিল; কিন্তু সে সময়ে ছাত্র-জনতা যে বৈপ্লবিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সেটিই ছিল প্রকৃত ন্যায্য আন্দোলন। তাদের ওর যে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে, তা ছিল চরম অন্যায় ও জুলুম।
তিনি আরো বলেন, মাহদীকে গ্রেফতার নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক ও ইন্টারনাল প্রেসারের কথা। প্রশ্ন হলো এ ইন্টারনাল প্রেসার আসছে কোথা থেকে? জুলাই-আগস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেয়ার যে ঘোষিত অধ্যাদেশ, সেটিকে তারা কার্যত বৃদ্ধাঙুলি দেখাচ্ছে।
এ সময় এ ছাত্রনেতা বলেন, আগে ঘোষিত দুই দফার মধ্যে প্রথম দফার আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। মাহদীকে এখনো নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়নি, একটি মামলায় শুধু জামিন দেয়া হয়েছে। ফলে আমাদের প্রথম দফা সম্পূর্ণ পূরণ হয়নি। তাই আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে, থেমে থাকবে না।
এ সময় তিনি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো ১. মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। ৩. সৈনিক ও কর্মচারীদের ভূমিকা জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করতে হবে; তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পদোন্নতি বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদে পদায়ন করতে হবে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে দেশের যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে, সে সব থানার ওসি, সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি এবং দায়িত্বরত কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ তালিকা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় কর্মসূচি হলো রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি নিশ্চিত করতে আন্দোলন। এ আন্দোলন আজ থেকেই শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে যারা মিডিয়া ট্রায়াল, ন্যারেটিভ নির্মাণ ও দমননীতি চালাচ্ছে, দেশী ও বিদেশী সব শক্তিকেই বলে দিতে চাই, আপনাদের সময় শেষ।
সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথীয়া জাহিন আয়েশা বলেন, মাহদী হাসানকে প্রথমে তুলে নিয়ে পরে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এরপর তাকে মামলা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে তিনি পুলিশের সাথে সহযোগিতা করেননি, পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন। এ সব অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো।
জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জামান সুরভীকে নিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া পুলিশি মানসিকতা এখনো বিদ্যমান। প্রথমে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হয়। সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলো; কিন্তু তার জীবনযাপন, বাসস্থান ও বাস্তবতার সাথে এর কোনো মিল নেই।
তিনি বলেন, আমরা তাহরিমা জামান সুরভীর পরিবারের পাশে আছি। আমরা এমন কল রেকর্ড পেয়েছি, যেখানে তাকে অবৈধ প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করায় তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের এভাবে তুলে নেয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।
আয়েশা বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বদ্ধপরিকর। এ প্রশ্নে একচুলও ছাড় দেয়া হবে না।



