মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে উপজেলার যত্রতত্র বালুর ডিপো তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এসব বালু বহনকারী বেপরোয়া গতির ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যেই অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস, জরিমানা ও সাজা দিলেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না স্থানীয় বালুখেকোদের।
সিলিকা বালুসমৃদ্ধ চুনারুঘাট উপজেলার মানচিত্র ক্রমান্বয়ে গিলে খাচ্ছে এই প্রভাবশালী চক্র। ঐতিহ্যবাহী চণ্ডীছড়া চা-বাগানের ছড়া থেকে অনবরত বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী সড়ক ধসে যেকোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে উপজেলার ভৌগোলিক রূপ বদলে যাচ্ছে। ছোট ছোট নালা এখন বড় ছড়ায় এবং ছড়াগুলো নদীতে রূপ নিচ্ছে। অন্যদিকে নদীগুলো ভাঙনের ফলে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। করাঙ্গী নদীর সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের কুরছিমুড়া, চান্দের টিলা ও কোনাগাঁও থেকে প্রতিদিন শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া ইজারা না থাকা সত্ত্বেও সুতাং নদীর বদরগাজী অংশ থেকে দিনরাত বালু লুট করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শর্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শক্তিশালী মেশিনের সাহায্যে বালু তোলার কারণে মূল ঘাটের বাইরে থেকেও বালু ধসে পাইপে চলে আসছে। এতে নদী ও ছড়াগুলো বিপজ্জনকভাবে গভীর হয়ে পাড় ধসে পড়ছে। অনেক স্থানে জনবহুল রাস্তার ওপর, যেমন গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে, কাচুয়া বাজার এবং রাজারবাজার বাঁশতলা এলাকায় বালু স্তূপ করে রেখে লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজট ও যাতায়াত সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে ধুলাবালুর কারণে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মী মশিউর রহমান খান বলেন, চুনারুঘাটের এমন কোনো সড়ক নেই যা অক্ষত আছে। বালুবাহী ওভারলোডেড ট্রাকের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাগুলো ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। সরকার প্রতি বছর বালুমহাল ইজারা দিয়ে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে। এ বিষয়ে চুনারুঘাট ইউএনও গালিব চৌধুরী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট চালিয়ে জরিমানা ও সাজা দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জেল-জরিমানা, ড্রেজার মেশিন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।



